রফিকুল হায়দার ফরহাদ নিউ ইয়র্ক থেকে
ম্যাচের বয়স তখন ৩৯ মিনিট। ততক্ষণে দুর্বল হাইতির বিপক্ষে ২-০তে এগিয়ে ব্রাজিল। এমন সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ঘটে গেল দুঃখজনক ঘটনা। মাঠে বসে পড়লেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রাফিনহা। রেফারির নির্দেশে মাঠে প্রবেশ করলেন টিম ডাক্তার। ওদিকে মুখটা ভার করে বসে আছেন বার্সেলোনার এই তারকা। একটু পরই হেঁটে হেঁটে মাঠ থেকে বের হয়ে গেলেন সেলেসাওদের এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আর মাঠে আসা হলো না। এখন শঙ্কা পুরো বিশ্বকাপ থেকেই বের হয়ে গেলেন না তো এই মহাগুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়টি। যদি তার হ্যামেস্ট্রিং চোটটা মারাত্মক ধরনেরই হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো আর এবারের বিশ্বকাপে দেখা যাবে না তাকে। ফক্স স্পোর্টস চ্যানেলের বিশেষজ্ঞ ধারা ভাষ্যকার সাবেক সুইডেনের জাতীয় দলের ফুটবলার জøাতান ইব্রাহিমভিচ প্রবল শঙ্কা নিয়েই বললেন, যদি রাফিনহার এটি হ্যামেস্ট্রিং চোট হয় এবং তা যদি হয় মারাত্মক হয়, তাহলে হয়তো এই বিশ্বকাপই মিস করবেন তিনি।
এবারের সিজনটি এই হ্যামেস্ট্রিং ইনজুরি বেশ ভুগিয়েছে রাফিনহাকে। তিন দফা মিলে বার্সেলোনার হয়ে ১৮টি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি; অর্থাৎ এই ইনজুরি পিছু ছাড়ছে না তাকে। গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর রায়ো ওভেইদোর বিপক্ষে খেলার সময় এই ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। এতে ৬৫ মিনিট পর তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। প্রথমে মনে করা হয়েছিল হয়তো তিন সপ্তাহ লাগবে তার সুস্থ হতে। অথচ দেখা গেল ম্যাচ ফিটনেস পেতে লেগে গেল ২২ নভেম্বর পর্যন্ত; অর্থাৎ দুই মাসের কাছাকাছি সময় পর ফিট হয়েছেন। এরপর ফিরে এসেছেন। ফর্মেও ফিরলেন দ্রুত। গোল করলেন হ্যাটট্রিকও পেলেন। তার হ্যাটট্রিক ছিল সেভিয়ার বিপক্ষে। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে সুপার ক্লাসিকোতে হলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। তবে এ বছর মার্চের শেষ দিকে আবার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি মাঠের বাইরে নিয়ে যায় তাকে। এবার ছিল ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ম্যাচে পাওয়া চোট তাকে পাঁচ সপ্তাহের জন্য খেলা থেকে দূরে রাখে। এ সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষেও পর্যন্ত খেলা হয়নি তার। পরে আবার সুস্থ হওয়া।
তবে হাইতির বিপক্ষে গতকাল ব্রাজিলের ৩-০ গোলের এই সহজ জয়ের ম্যাচে বড় আঘাত হলো রাফিনহার ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়াটা। এমনিতেই পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় মাঠে নামা হচ্ছে না নেইমারের। এখন আরেক ফরোয়ার্ড রাফিনহাও ইনজুরিতে। দু’জনের অনুপস্থিতিতে হাইতি বাধা টপকানো গেলেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জেতাটা কঠিনই হয়ে যাবে। ‘সি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেরা ৩২-এ যাওয়ার জন্য স্কটিশদের বিপক্ষে জিততে হবে তাদের। কারণ ঘাড়ের ওপর গরম নিঃশ্বাস ফেলা শুরু করেছে মরক্কো। ব্রাজিলের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি ১-০তে হারিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। ফলে ব্রাজিল ও মরক্কোর পয়েন্ট ৪ করে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে গোল পার্থক্যে এগিয়ে ব্রাজিল। ব্রাজিলের মতো একটি খেলা বাকি মরক্কোরও। পরের ম্যাচে সেলেসাওরা মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। আর মরক্কো প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে বিদায় নেয়া হাইতিকে।
ইতোমধ্যেই ছিটকে পড়া হাইতি বিপক্ষে মরক্কো জয় পেলে এবং ব্রাজিল যদি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে ব্যর্থ হয় তাহলে মরক্কোই হবে গ্রুপ সেরা।



