রফিবুল হায়দার ফরহাদ - নিউ ইয়র্ক থেকে
গত রাতেই শুরু হয়ে গেছে এবারের বিশ্বকাপের মূল লড়াই। তিন স্বাগতিক দেশের একটি মেক্সিকো মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আজ লস অ্যাঞ্জেলেসে অপর স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাঠে নামছে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। অন্য দিকে অপর স্বাগতিক কানাডা টরেন্টোতে ম্যাচ খেলবে বসনিয়া-হারজেগোভিনার বিপক্ষে। এবারের বিশ্বকপের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। খেলা যেমন বেশি তেমনি ভেনুও বেশি তাদের। অথচ গত রাতে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে নেমে বোঝাই গেল না উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ এই দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বিশাল আয়োজন হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে পশ এরিয়া লং আইল্যান্ডে গেলাম আমার এক আত্মীয়ের গাড়িতে চড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই সড়ক পথে কোথাও চোখে পড়ল না বিশ্বকাপ প্রচারণার কোনো চিহ্ন। তবে বিমানবন্দরে বিভিন্ন দেশের দর্শকরাই জানান দিচ্ছিল মার্কিন মুল্লুকে যে হচ্ছে বিশ্বকাপ।
ঢাকা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় ক্যাথে প্যাসিফিকের ফ্লাইটে হংকংয়ে। সেখানে আট ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে ১৬ ঘণ্টায় প্রশান্ত মহাসাগর ডিঙিয়ে নিউ ইয়র্কে পৌঁছা। এই নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দর আকাশপথে দেশটিতে পৌঁছানোর অন্যতম একটি মাধ্যম। ফলে আমার মতো নানান দেশের সাধারণ যাত্রী এবং ফুটবল সমর্থকদের একটি অংশ এই জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর ব্যবহার করেছে। ভিন্ন ফ্লাইটে স্কটল্যান্ড থেকে নিউ ইয়র্কে এসেছে চল্লিশ জনের এক দল স্কটিশ সমর্থক। কোলের বাচ্ছা থেকে শুরু করে প্রৌঢ় সবাই আছে এই বহরে।
এই স্কটিশ দর্শকদের পরনে স্কটল্যান্ডের গেঞ্জি, মাথায় দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাপই বলে দিচ্ছিল তারা স্কটল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমী। অন্য একটি ফ্লাইটে মরক্কোর দম্পতি এসেছে। তাদের পরনেও দেশটির ফুটবল দলের জার্সি। স্্েরফ এদের দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে বিশ্বকাপ।
অথচ ভিন্ন চিত্র ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া ও কাতারে। সেখানে বিমানবন্দরেই বিশ্বকাপের দর্শক, মিডিয়া কর্মীদের স্বাগত জানানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট একটি বুথও ছিল। কিন্তু জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে (জেএফকে) এমন কিছুই ছিল না।
হংকং বিমানবন্দরে নিউ ইয়র্কগামী বিমানে ওঠার আগে ফাইনালে সিকিউরিটি চেকিংয়ের সময় কেন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি করা হলো এই প্রশ্ন। উত্তরে সাংবাদিক, বিশ্বকাপ কভার করতে যাচ্ছি শুনে বেশ উৎফুল্ল ওই নিরাপত্তা কর্মী। তবে তেমন কোনো এক্সসাইটমেন্ট দেখা গেল না জেএফকে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের মাঝে। কেন যুক্তরাষ্ট্র্রে এসেছি এ উত্তরে পরিচয় এবং বিশ্বকাপ ফুটবল কভার করার কথা বললে হালকা প্রতিক্রিয়া। এরপর উল্টো কত হাজার ডলার সাথে এনেছি করে ফিরব এই প্রশ্নজুড়ে দেয়া। আমার উত্তরে তিনি অবশ্য সন্তুষ্ট। এরপর আমার পাল্টা জিজ্ঞাসা ছিল তার কাছে, এবারের বিশ্বকাপে কেমন করবে যুক্তরাষ্ট্র্রের ফুটবল দল। তরুণ বয়সী ওই ইমিগ্রেশন পুলিশের জবাব, ‘আমি বাস্কেটবল বেশি পছন্দ করি। ফুটবল অতটা নয়।’
যে খালার বাসায় আমি উঠেছি সেখানে এসে দেখি ব্যাপক আয়োজেন দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল লিগের (এনবিএল) ফাইনাল রাউন্ডের ম্যাচ। আামার ওই খালুর দল নিউ ইয়র্ক নিকষ ইতিহাস গড়ে ২৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জিতেছে স্যান আন্থনিও স্পার্র্সের বিপক্ষে। স্মরণীয় এই ফাইনালের পর তার উত্তেজনা আর থামছিল না। তার দেয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবল এবং আমেরিকান ফুটবল (রাগবির মতোই খেলা তবে এই খেলা মাথায় হেলমেট পরে খেলতে হয়) বেশি জনপ্রিয়।
বিমানে বসে নিউ ইয়র্কের যেসব খেলার মাঠ দেখলাম সেখানে সবই রাগবি, বেসবল এবং আমেরিকান ফুটবল মাঠের গ্রাউন্ড। একটিও ফুটবল মাঠ চোখে পড়েনি। সুতরাং এমন দেশে ওই বিদেশী দলের ফুটবল সমর্থকরাই তো হবেন আসল প্রাণ।



