- মেয়াদের পর বাড়ছে ৩৯.৭৬ কোটি টাকা ব্যয়
- ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় তিনটি প্যাকেজ বাতিল
তিন দফা সময় বাড়িয়েও কাজ হলো না। দরপত্রে ঠিকাদারও মিলল না। পরিকল্পনার অভাব, ভূমি অধিগ্রহণে চরম স্থবিরতা এবং দরপত্র জটিলতায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে থমকে আছে শরীয়তপুর (মনোহর বাজার)-ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট সড়ক (আর-৮৬০) উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্পটি পৌনে ৩ বছরে শেষ হওয়ার কথা। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় তিনটি প্যাকেজ বাতিল। আজো টেন্ডার হয়নি। বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। উল্টো প্রাক্কলন ভুলের দোহাই দিয়ে বাড়ানো হচ্ছে আরো প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প সমাপ্ত করার জন্য বলেছে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দিকে বছরের পর বছর সড়কটির কাজ শেষ না হওয়ায় তাদেরকে চরম ভোগান্তিতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অন্য দিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাড়ছে প্রকল্পের খরচ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহনের সহজে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য ২০০১ সালে চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক চালু হয়। সড়কটি সরু ও চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় বিগত সরকার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে ২০১৯ সালের ১২ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৮৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। তখন বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল মার্চ ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত। ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের প্রাথমিকভাবে ৪ লেনের সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৪৩০ কোটি টাকা ও ২ লেনের ৩৪ ফুট প্রস্থ সড়ক নির্মাণে বাকি ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। তবে ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে ইতোমধ্যে তিন দফা সময় বাড়িয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ জুন ২০২৭ পর্যন্ত রয়েছে।
প্রকল্পটির প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে- ৯৫.৮৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, প্রায় ১১.৪০ লক্ষ ঘনমিটার মাটির কাজ, ৩১.১০৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক, একটি ৪৪ মিটারের সেতু এবং কালভার্ট নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ।
দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত ৪টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র ১টি প্যাকেজের (৪ নম্বর) কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকি ১, ২ এবং ৩ নম্বর প্যাকেজের কাজ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে চুক্তি করার পরও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন ডিপিপি সংশোধন করে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
২০১৯ সালের রেট শিডিউলে ঠিকাদার মেলেনি
পরিকল্পনা কমিশনে দেয়া প্রকল্প পরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, সড়কটির পূর্ত কাজের প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২০১৯ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী। কিন্তু সেই পুরনো দর তালিকায় কাজ করতে আগ্রহী হয়নি কোনো ঠিকাদার। একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা সত্ত্বেও ঠিকাদার না মেলায় বাধ্য হয়ে হালনাগাদ রেট শিডিউলে নতুন হিসাব কষা হয়েছে। এর ফলে সড়ক বাঁধ নির্মাণ, নতুন পেভমেন্ট ও সার্ফেসিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শত কোটি টাকার বাড়তি খরচের বোঝা এসে চেপেছে সরকারের ঘাড়ে।
ব্যয় ৪.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সড়ক বাঁধ নির্মাণ, বাঁধ প্রশস্তকরণ, নতুন পেভমেন্ট নির্মাণ এবং সার্ফেসিং খাতে ব্যয় বেড়েছে। অন্য দিকে মাঠপর্যায়ের প্রয়োজন বিবেচনায় আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যমান কালভার্ট প্রশস্তকরণ এবং ইন্টারসেকশন উন্নয়নসহ কয়েকটি খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মেয়াদ আর বাড়ানো যাবে না
ডিপিইসি সভায় পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ইতোমধ্যেই মূল মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত ৫ বছর সময় পার হয়ে গেছে। সরকারি নীতিমালা (জুন ২০২২) অনুযায়ী ১৫ শতাংশ বা ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় বৃদ্ধি মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায় এই সংশোধনী পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে অবশ্যই কাজ শেষ করতে হবে। পরবর্তীতে আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো যাবে না।



