আলজাজিরা
ইউক্রেনে রাতভর রাশিয়ার পরিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অংশ হিসেবে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করে। এর জেরে ন্যাটো জরুরি ভিত্তিতে আকাশে যুদ্ধবিমান পাঠায়। পরবর্তীতে ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘটিত ইউক্রেনের ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত আটজন সাধারণ মানুষ নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ প্রতিবেশী ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কা এতে অরো তীব্র হচ্ছে। পোল্যান্ডসহ ন্যাটোর একাধিক সদস্যরাষ্ট্র এর আগেও পথভ্রষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি আকাশ হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে।
ন্যাটোর এক মুখপাত্রের তথ্যমতে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পোল্যান্ডসহ জোটের সদস্যদেশগুলো এফ–১৬ যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ ও আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ (এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং) বিমান মোতায়েন করে। ন্যাটো জানিয়েছে, ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে। পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় তারনাভা–কোলোনিয়া গ্রামের কাছে বিস্ফোরণের ফলে একটি বড় গর্ত তৈরি হলেও এতে কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। তবে এই ঘটনা ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যকার বিরাজমান সামরিক উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যাটোর আকাশ ও স্থল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা নিশ্চিত করে জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে এটিকে রাশিয়ার একটি বেপরোয়া পদক্ষেপ এবং যুদ্ধের বিপজ্জনক পরিণতি হিসেবে অভিহিত করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানান, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে এটি একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রই ছিল। একই দাবি করে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এটি ছিল একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যা ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তিনি ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার স্বার্থে ইউক্রেনের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



