রাজীব চাকমাকে ঘিরে পদকের আশা

Printed Edition
জিমন্যাস্ট রাজীব চাকমা
জিমন্যাস্ট রাজীব চাকমা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমন্যাশিয়াম। এই স্থানেই চলছে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিক্স দলের অনুশীলন। জাতীয় দলের যা কিছু অর্জন এই প্রচণ্ড গরমের অস্বস্তিকর জিমন্যাশিয়ামে প্র্যাকটিস করেই। এখন সেখানে চলছে আসন্ন এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি। এই গেমসে অংশ নেবেন মাত্র একজন জিমন্যাস্ট। আর তিনি রাজীব চাকমা। তিনি কোয়ালিফাই করেই এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়ার ছাড়পত্র অর্জন করেছেন। আর তা গত জুনে চীনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান জিমন্যাস্টিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে নবম হয়ে। কোচ আবদুল্লাহ আল মাসুম জানান, আমরা রাজীবকে ঘিরে ভল্টিং টেবিলে পদকের আশা করছি। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সে মাত্র .৫ পয়েন্টের জন্য ফাইনালে উঠতে পারেনি।

সর্বশেষ গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেসমে অংশ নিয়েছিলেন রাজীব। সেখানে অবশ্য ভালো করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। যদিও রাঙ্গামাটির এই ছেলের ভাণ্ডারে রয়েছে আন্তর্জাতিক পদক। আর তা সিঙ্গাপুর ওপেন ও সাউথ সেন্ট্রাল জিমন্যাস্টিক্সে। সিঙ্গাপুর ওপেনে ২০২৫ ও এ বছর ভল্টিং টেবিলে রৌপ্য জয় করেন। এ ছাড়া ২০২১-২২ এ সাউথ সেন্ট্রাল জিমন্যাস্টিক্সে রৌপ্য পান তিনি।

বান্দরবানের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্কুলে জিমন্যাস্টিক্সে হাতে খড়ি রাজীবের। এরপর জুনিয়র জিমন্যাস্টিক্সে অংশগ্রহণ। জাতীয় দলে আছেন ছয়-সাত বছর ধরে। জানান, ‘আমার এবার আত্মবিশ্বাস আছে এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের। আর এই আত্মবিশ্বাসটা এসেছে এত দিন ধরে খেলার কারণে।’ এরপরই তার আফসোস, ‘যদিও এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভল্টিং টেবিলে ভালো করতে পারিনি। প্রথম এতো বড় আসর তো, একটু নার্ভাস ছিলাম। তবে কমনওয়েলথ গেমসের সেই অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাবো এশিয়াডে।

কোচ আবদুল্লাহ আল মাসুম আরো বড় স্বপ্ন দেখছেন রাজীব চাকমাকে ঘিরে। জানান, ‘রাজীব যদি এশিয়ান গেমসে পদক পায় তাহলে ২০২৮ অলিম্পিক গেমসে সরাসরি কোয়ালিফাই করবে। এশিয়াডে পদক না এলে দু’টি বিশ্ব জিমন্যাস্টিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করতে হবে। তাহলেই ওয়াইল্ড কার্ড মিলবে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসের জন্য।’ তার মতে, এ জন্য রাজীবের ভালো নার্সিং দরকার। সে সাথে পুষ্টিবিদের পরামর্শ মোতাবেক খাবার খেতে হবে তাকে।’ উল্লেখ্য ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে জিমন্যাস্টিক্সে অংশ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাইজ সিজার। তিনিই প্রথম সাউথ সেন্ট্রালে বাংলাদেশকে স্বর্ণ এনে দিয়েছিলেন।