ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। বিশেষ করে শিশু, কিশোর ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই প্রবণতায় বেশি ঝুঁকে পড়ছে। সুশিক্ষার অভাব, পারিবারিক অসচেতনতা, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার এবং নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়কেই এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ধামালিয়া গ্রামে মোবাইল ফোন না পেয়ে অভিমান করে আসমানী খাতুন (১০) নামে এক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এর আগে ১০ জুলাই রঘুনাথপুর গ্রামে পড়াশোনা নিয়ে মায়ের বকুনি খেয়ে স্বপ্নীল সাহা (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানালার গ্রিলে গামছা পেঁচিয়ে প্রাণ দেয়। একই মাসে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় বরুনা গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী পূজা রানী কুণ্ডু (১৫) এবং মায়ের সাথে অভিমান করে টিপনা গ্রামের এইচএসসি শিক্ষার্থী অনামিকা মণ্ডল (১৮) আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া ১৮ জুলাই মংলা বন্দরে কর্মরত হৃদয় মণ্ডল (১৮) নামে এক যুবক নিজ কর্মস্থলে গলায় ফাঁস দেন। তার সাথে এক কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
উপজেলার ধামালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বি এম জহুরুল হক বলেন, সন্তানদের শাসনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরো সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। সামান্য বকুনিতেই শিশুরা এমন চরম পথ বেছে নিচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশিষ্ট সমাজসেবক অধ্যাপক আব্দুল কাইউম জামাদ্দার ও সাবেক চেয়ারম্যান জি এম আমান উল্লাহ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার ও মানসিক অবসাদ দূর করতে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা জরুরি।
ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, আত্মহত্যার প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিট পুলিশিং, উঠান বৈঠক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।



