ক্রীড়া ডেস্ক
শিরোপাধারী ইয়ানিক সিনারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে থেমে গেল নোভাক জোকোভিচের ইতিহাস গড়ার আরেকটি প্রচেষ্টা। গত শুক্রবার উইম্বলডনের পুরুষ এককের সেমিফাইনালে সার্বিয়ান কিংবদন্তিকে টানা তিন সেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন বিশ্বের এক নম্বর এই ইতালিয়ান তারকা। একই সাথে জোকোভিচের রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ডসø্যাম একক শিরোপা জয়ের স্বপ্নও আপাতত ভেঙে দিলেন তিনি।
অল ইংল্যান্ড ক্লাবে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখান সিনার। শক্তিশালী সার্ভিস, নিখুঁত গ্রাউন্ডস্ট্রোক এবং আক্রমণাত্মক টেনিসে জোকোভিচকে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। মাত্র ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৬-৪, ৬-৪ ও ৬-৪ গেমে জয় তুলে নেন বর্তমান উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন।
ম্যাচের প্রথম দুই সেটে জোকোভিচ একটি ব্রেক পয়েন্টও আদায় করতে পারেননি। তৃতীয় সেটের মাঝামাঝি একমাত্র ব্রেকের সুযোগ পেলেও সেটি একটি এস সার্ভিসে নস্যাৎ করে দেন সিনার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। নিজের সার্ভিস গেম ভালোবাসা (লাভ) পয়েন্টে জিতে ম্যাচ শেষ করে নেটের কাছে গিয়ে জোকোভিচকে আলিঙ্গন করেন ইতালিয়ান এই তারকা।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে একাধিকবার উইম্বলডনের পুরুষ এককের ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়েছেন সিনার। এটি গ্র্যান্ডসø্যামে তার ৯৯তম ম্যাচ জয় এবং ক্যারিয়ারের সপ্তম মেজর ফাইনাল। ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ হবেন জার্মান তারকা আলেক্সান্ডার জাভেরেভ।
ম্যাচ শেষে সিনার বলেন, ‘উইম্বলডন বিশেষ টুর্নামেন্ট। এখানে আবারো ফাইনালে খেলতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। নোভাক শুধু আমাদের নয়, নতুন প্রজন্মেরও অনুপ্রেরণা। এই বয়সেও তিনি যা করছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন সিনার। উদ্বোধনী ম্যাচ ছাড়া আর কোনো ম্যাচে একটি সেটও হারাননি তিনি। সেমিফাইনালে ১৬টি এস সার্ভিস মারার পাশাপাশি ৪০টি উইনার আদায় করেন, যেখানে তার অনাকাক্সিক্ষত ভুল ছিল মাত্র ১৫টি। আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই তিনি ছিলেন জোকোভিচের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
অন্য দিকে, ২৪টি গ্র্যান্ডসø্যাম শিরোপাজয়ী জোকোভিচ সেমিফাইনালে নিজের সেরা খেলাটা খেলতে পারেননি। কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের চতুর্থ র্যাংকধারী ফেলিক্স অগার-আলিয়াসিমকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লড়াই করে হারানোর ক্লান্তিও তার খেলায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে পরাজয়ের পরও হাল ছাড়ছেন না ৩৯ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান। ম্যাচ শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছর ৪০ বছর বয়সে হলেও আবারো উইম্বলডনে খেলতে চান।
জোকোভিচ বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের কাছে সরাসরি তিন সেটে হারা মেনে নিতে হবে। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে আমার লড়াই, মানসিকতা এবং নিবেদন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এবার শরীর আমাকে ভালো সমর্থন দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি অন্তত আর একবার উইম্বলডনে ফিরতে চাই। যখন সুস্থ থাকি, তখন এখনো বিশ্বের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। টেনিস আমাকে জীবনে সবকিছু দিয়েছে এবং এখনো বড় মঞ্চে খেলার তীব্র আকাক্সক্ষা আমার আছে।’
জোকোভিচ স্বীকার করেন, তার প্রত্যাশার মান এতটাই উঁচু যে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠাও এখন আর তাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য এখনো হারিয়ে ফেলেননি।
এ দিকে ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর সিনার। জাভেরেভের বিপক্ষে আগের ১৪ দেখায় ১০টিতেই জয় পেয়েছেন তিনি। যদিও ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম জয়ের পর জাভেরেভ যে এখন আরো পরিণত প্রতিদ্বন্দ্বী, সেটিও ভালোভাবেই জানেন ইতালিয়ান এই তারকা। তাই আজকের ফাইনালে জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন টেনিসপ্রেমীরা।



