নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বন্যাদুর্গত জেলাগুলোর কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও ইতোমধ্যে পানিবন্দী হওয়া মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা কমছে না। দক্ষিণ চট্টগ্রামে পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। কক্সবাজারের চার জেলায় বৃষ্টি কমলেও লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট অঞ্চলে উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন নিচু এলাকার মানুষ। গতকাল পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ দিকে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
চলমান বন্যা ও পাহাড় ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৪৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত জেলার ১০ লাখ ২৩ হাজার মানুষ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ- এই সাত জেলা বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়টির হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, এসব জেলার ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। সাত জেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দুই লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বন্যা ও পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও বন্যায় ২৩ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। কক্সবাজারে আহত হয়েছেন ২৪ জন।
এ দিকে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে বন্যা ও দেয়াল ধসের ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জনের আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ঢলের পানিতে ভেসে ও পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন; আহতের সংখ্যা দুই। আরেক পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা মৌলভীবাজারে বন্যায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক ও পূর্ণ জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় সাত লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
কক্সবাজারের ৪ উপজেলায় পানিবন্দী লাখো মানুষ
কক্সবাজার অফিস জানায়, কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো পানিবন্দী ও জলাবদ্ধতার শিকার লাখো মানুষ। তলিয়ে গেছে সড়ক, উপসড়ক, ঘরবাড়ি ও ফসলী মাঠ। পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে জেলার চকরিয়া, পেকুয়া মাতামুহুরি ও রামু উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের এক লাখের লাখের বেশি মানুষ।
কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অবস্থা এখনো ভয়াবহ। বিগত পাঁচ দিন ধরে এই তিন উপজেলার ৩০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আছে। সাগরে জোয়ারের প্রভাব থাকায় বন্যার পানি নামছে খুবই ধীরে। এসব এলাকার বাসিন্দারা খুবই দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
মাতামুহুরি নদীর কয়েকটি পয়েন্টে বড় ধরনের ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয় এসব এলাকা। মাতামুহুরি ও বাকখালী নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের সূত্র মতে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। ৬৪০টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা।
এ দিকে গত এক সপ্তাহ ধরে বৈরী আবহাওয়ায় নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেন্টমার্টিনে খাদ্য ও নিত্যপণ্য সামগ্রীর সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের সাথে টেকনাফের নৌযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সেন্টমার্টিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
সিলেটে ৪ পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি
সিলেট ব্যুরো জানায়, বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল অব্যাহত থাকায় সিলেটের চারটি পয়েন্টে বেড়েছে নদ-নদীর পানি। তবে জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শনিবার পাউবোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির স্তর ছিল ৯.৭৮ মিটার, যা বিকেল ৩টায় বেড়ে ৯.৮০ মিটারে পৌঁছেছে। তবে কানাইঘাট পয়েন্টে একই সময়ে পানির স্তর শূন্য দশমিক ৫ সেন্টিমিটার কমেছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির স্তর সকাল ৬টার ৯.৬৬ মিটার থেকে বিকেল ৩টায় বেড়ে ৯.৬৯ মিটারে দাঁড়িয়েছে। অন্য দিকে অমলশিদ, শেওলা ও শেরপুর পয়েন্টে পানির স্তর কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
এ দিকে সারী-গোয়াইন ও ধলাই নদীর পানিও বেড়েছে। গোয়াইনঘাট পয়েন্টে পানির স্তর ৯.৭৭ মিটার থেকে বেড়ে ৯.৮২ মিটারে এবং ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে ৯.৪৫ মিটার থেকে বেড়ে ৯.৫৫ মিটারে পৌঁছেছে।
পাউবো সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, শনিবার সকাল থেকে সিলেটে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হয়েছে এবং উজানের ঢলও কিছুটা কম ছিল। ফলে কোথাও নদীর পানি কমেছে, আবার কোথাও ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি ও ঢল বাড়লে নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে।
বান্দরবানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সারা দেশের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পাহাড়ধস ও সড়ক পানিতে ডুবে থাকায় জেলা শহরের সাথে রাঙ্গামাটি, বাঙ্গালহালিয়া-চন্দ্রঘোনা সড়ক এবং রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলার সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়া এবং গাছ উপড়ে পড়ায় বান্দরবান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার নিম্নাঞ্চলের পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও রাতে আবারো ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে ওঠে। গতকাল শনিবার সকালে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের বাঙ্গালহালিয়ার ব্রিজঘাট এলাকায় একটি বেইলি ব্রিজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এতে এই সড়কে মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশাও চলাচল করতে পারছে না। মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন।
দুর্গতদের খাবার সঙ্কট
চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরি ও পেকুয়া উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এসব বন্যদুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পানিবন্দী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাবার ও খাবার পানির সঙ্কট। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলার বেতুয়া বাজার স্টেশন এবং কোনাখালী ইউনিয়নের মরংগুনা পরিদর্শন করে পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এ দিকে জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজারের জেলা আমিরের নেতৃত্বে একটি টিম শনিবার সকালে চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরি ও পেকুয়া উপজেলার এখনো গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে থাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গত ৬ দিন ধরে টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় এসব ইউনিয়নে বন্যার পানির স্রোতে শত শত একর মাছের ঘের, আমন ধানের বীজতলা, বসতবাড়ি ভেসে যায় এবং এলাকার পানিবন্দী মানুষগুলো খাবারের সন্ধানে উপজেলা প্রশাসনের ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে ভিড় করছেন।
কর্ণফুলী নদীতে যুবক নিখোঁজ
রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, গতকাল শনিবার সকালে রাঙ্গুনিয়ার শিলক খালের দুধপুকুরিয়া রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পদুয়া সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া ব্রিজঘাটার ব্রিজ ভেঙে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আকস্মিক ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ দিকে সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটার কর্ণফুলী নদীর শিলক খালের মুখে গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় লাকড়ি ধরতে গিয়ে মোহাম্মদ সোলেমান (২০) নামে এক যুবক নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবল স্রোতে দুই ভাই লাকড়ি ধরতে গেলে পানির স্রোতে সোলেমান ভেসে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আব্দুল হালিম নামে আরেক সহোদরকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ও চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরির দল কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ যুবকের খোঁজে তল্লাশি চালায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের সন্ধান মিলেনি।
চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর খাবার বিতরণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, পানিবন্দী হয়ে পড়া চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন বিজয় নগর, আকমল আলী রোড, নিউমুরিং মাদরাসা, নারিকেলতলা ও নেভি হাসপাতাল গেট এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নৌবাহিনী দল। এ সময় পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে নৌবাহিনীর সদস্যরা দুই হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়। মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত নৌবাহিনীর এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ফটিকছড়িতে পানিবন্দী হাজারো মানুষ
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হালদা, ধুরুং ও সর্তাসহ উপজেলার প্রধান প্রধান নদী ও খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির কারণে মাধ্যমিক পর্যায়ের চলমান নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ দিকে দুর্গত এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণকার্যক্রম জোরদার করতে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা স্পিডবোট ও নৌকার সাহায্যে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনো খাবার ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
মৌলভীবাজারে বাঁধভাঙায় দুর্ভোগ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় মৌলভীবাজারের নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করা বন্যার পানি এখনও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে রেখেছে। ফলে হাজারো মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শনিবার সকাল ৯টায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মনু নদী ও কমলগঞ্জের ধলাই নদীর পানি কমলেও এখনো বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য দিকে ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় মনু নদীর বাঁধ এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়। এসব ভাঙন দিয়ে প্রবল স্রোতে বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। বন্যার কারণে অন্তত ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
আলীকদমে পরিস্থিতির অবনতি
আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা জানান, টানাবর্ষণ ও মাতামুহুরি নদীর পানি ওঠানামার কারণে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। শনিবার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
খাগড়াছড়িতে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, বন্যাদুর্গতদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিতে সর্বদা পাশে রয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যা প্রয়োজন পর্যায়ক্রমে সবই করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। শনিবার বিকেলে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজখবর রাখছেন। তার নির্দেশনাতেই আমি ৫টি জেলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের দুর্ভোগ দেখতে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে সার্ভাইব করতে খাদ্য সহায়তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।



