রংপুর ব্যুরো
রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের মামলার তদন্ত চলমান, তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্ন আসবে। সে সব প্রশ্ন পেশাদারিত্বের সাথে সমাধান করেই চার্জশিট দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাসা ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে এই মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে তিনি ঘটনাস্থলের পাশের তিনতলা বাড়ি, গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ এবং দ্বিতীয় তলার প্রতিটি রুম পরিদর্শন করেন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। আজকে আমি এখানে এসেছি আসলে মূলত জায়গাটা দেখতে। যেকোনো মামলা কার্যক্রমটা, আসলে পিওটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তো এই মামলাটি চলমান আছে, আমি আসলে পিও দেখতে এসেছি। এই হলো আমার পক্ষ থেকে এটুকু। এটা তদন্ত হচ্ছে। তদন্তটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অনেক প্রশ্ন আসবে। সে প্রশ্নগুলোর পেশাদারিত্বের সাথে জবাব খোঁজাটাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজগুলো করছি। ’
কমিশনার বলেন, “আমার জন্য এই মামলা সম্পর্কে এখন কিছু বলাটা আসলে খুব টু আর্লি হয়ে যাবে। বেসিক্যালি আমি আসলে বুঝতে এসেছি। আর আপনারা, আমি জানি এখানে থাকবেন। এই মামলা একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এই মামলা নিয়ে সারা দেশে নানা রকম কথাবার্তা হচ্ছে। এই প্রতিটা কথাবার্তা সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে সেগুলোর যথাযথ জবাব দিয়ে মামলাটাকে একটা সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে যাতে একটা সুবিচার হয়, আমরা সেই চেষ্টাটাই করছি। কমিশনার বলেন, “আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। আলামত তো এটা ক্রাইম সিন, সেটাকে সংরক্ষণ করা আছে। এটা আসলে আমার কাছে সুস্পষ্ট কোনো রকম কোনো তথ্য নেই। আমি জয়েন করেছি গতকালই। “
কমিশনার বলেন, আমি আসলে পিওতে এসেছি কেবল। আর ইতঃপূর্বে মামলার যে অগ্রগতি, সেটা আপনাদেরকে টাইম টু টাইম আগের কমিশনার মহোদয় ব্রিফ করেছেন। তা আমি সেই জায়গাটায় আপাতত থাকতে চাই। এরপরে যদি নতুন কোনো ক্লু আসে, আপনারাও দিবেন, আমরাও তদন্ত করবো। আসলে কাজটা পুলিশেরই। আর আপনাদের কাছ থেকে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, আমি এটুকুই বলব।” কমিশনার বলেন, আলামতগুলো খোলা জায়গায় আছে কিনা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
কমিশনার বলেন, “মাদক আসলে শুধু রংপুরের সমস্যা নয়, এটা আসলে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রবলেম এই মুহূর্তে। তো মাদকের বিষয়ে আমি আজকে এসেই সকালে আমার অফিসারদের সাথে বসেছি, কথা বলেছি। আমি একটু ধারণা নেয়ার চেষ্টা করেছি। তো মাদকের বিষয়ে আমার একটাই বক্তব্য থাকবে আপনারা আগামী এক সপ্তাহে, আমি সময় দিয়েছি সবাইকে, যে আপনারা ভিজিবল কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন রংপুর শহরে।’ কমিশনার বলেন, রংপুর একটা শান্তিপূর্ণ শহর। বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়াসহ আপনাদের বক্তব্যে যে সমস্ত তথ্য আসতেছে, বাস্তবিক অর্থে এই ঘটনাগুলো ঘটছে। তো আমি এটাই বলব যে, সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা রংপুরকে একটা শান্তি, নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলব।
জব্দকৃত আলামত খোলা জায়গায় রাখার ব্যাপারে নতুন পুলিশ কমিশনার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মাদকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি এক সপ্তাহের মধ্যে নগরবাসি দেখতে পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২৮ আগস্ট ভোররাতে মাছুয়া পাড়ার নিজ বাসায় খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরে যাওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও পুত্র আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধ দাস নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ এবং সীমান্ত দাস নামে দুইজন সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে আদালতে। এরই মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছেছে।



