কালীগঞ্জে মাদকের বিস্তার, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

Printed Edition

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও বড় চালান সরবরাহকারী ও মূল কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে সেবনকারী ও খুচরা বিক্রেতারা গ্রেফতার হলেও মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ধীরে ধীরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, চোলাই মদ ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা চলে আসছে। অলিগলি, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মাদক সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর-তরুণরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। মাদককেন্দ্রিক অপরাধে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বাড়ছে বলে জানা গেছে।

থানা সূত্র জানায়, গত আট মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবা, এক হাজার ৮২৪ ক্যান বিয়ার, ৫১০ লিটার চোলাই মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১১২ জনকে গ্রেফতার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯৬টি মামলা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও বিভিন্ন সময়ে সাজা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, জামালপুর ও মোক্তারপুর এলাকায় মাদকের বড় চালান প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে অভিযান আরো জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত জুলাই মাসে মোক্তারপুরের নোয়াপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে দুর্বৃত্তরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সচেতন মহলের মতে, শুধু সভা-সমাবেশ বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। উৎস, সরবরাহ নেটওয়ার্ক ও অর্থের লেনদেন চিহ্নিত করে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মো: জাকির হোসেন বলেন, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: এমদাদুল হক মিঠুন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জোগানদাতা ও নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের সম্পদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে এবং উপজেলাভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।