নয়া দিগন্ত ডেস্ক
মায়ের ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হবে ছেলে। তার নিজেরও একই ইচ্ছা ছিল। কিন্তুসেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি কম বয়সে। তবে হাল ছাড়েননি। মায়ের সেই স্বপ্নপূরণ করতে ৭১ বছর বয়সে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা দিলেন এক বৃদ্ধ। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের লক্ষেèৗয়ে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছর বয়সে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা দেয়া ওই বৃদ্ধের নাম অশোক বাহার। বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) দিয়েছেন তিনি। মাঝখানে সঠিক প্রস্তুতির জন্য পরীক্ষা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এর পর দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর আবার পরীক্ষায় বসেন তিনি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অশোক বলেন, আমার মা সব সময় চাইতেন আমি আমার বাবার মতো একজন ডাক্তার হই। আমার বাবা লক্ষেèৗয়ের একজন সম্মানিত চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু তখন মায়ের স্বপ্নপূরণ করতে পারিনি।
অশোকের চিকিৎসক হতে না পারার দুঃখ ছিল অনেক। কিন্তু তার চিকিৎসাব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকার স্বপ্নকে জিইয়ে রাখতে অশোকের পরিবারও অনেক চেষ্টা করেছিলন। অশোক বিয়েও করেন এক চিকিৎসককে। তার স্ত্রী মঞ্জু বাহার একজন নামকরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। স্বাস্থ্যসেবার সাথে গভীরভাবে যুক্ত ওই পরিবারে প্রায় ২০ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে বিদেশেও কর্মরত। কিন্তু চিকিৎসক হতে পারেননি অশোক। স্নাতক পর্যায়ে একাধিকবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় সাফল্য অধরা থেকে যায় তার।
মজার বিষয় হলো, বহু বছর পর অশোকের স্ত্রী মঞ্জুই চিকিৎসার প্রতি স্বামীর আগ্রহকে পুনরায় জাগিয়ে তুলেছিলেন। অশোকের কথায়, ‘সময়ের সাথে সাথে আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনিই আমাকে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় আরো একবার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করেছিলেন।’ প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হলে ৭১ বছর বয়সে অশোকের হেপাটোলজিতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।



