আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

Printed Edition
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

বর্ষাধারায় মনটা হারায়

নূর-ই-ইলাহী

মেঘের কোলে বিজলী খেলে বৃষ্টি পড়ে ঝুম

আদুল গায়ে বৃষ্টি বিলাস নেয় কেড়ে নেয় ঘুম

কাগুজে নাও দাও ভাসিয়ে স্রোতের ধারায় ঠিক

কোলাব্যাঙ আর সোনাব্যাঙের মিছিল চতুর্দিক।

টাপুর টুপুর বর্ষাধারায় ছন্দ তোলে খুব

দিঘির জলে বৃত্ত এঁকে বৃষ্টিরা দেয় ডুব

পাহাড় ধুয়ে ঝর্ণা হয়ে গড়গড়িয়ে নামে

বৃষ্টি হয়ে ধরার বুকে নামে মেঘের খামে।

ব্যাঙের ছাতায় লুকিয়ে মাথা চেঁচায় ব্যাঙের বউ

বাঁচাও আমায় সোনার ছেলে বিমান সেনা নৌ

বৃষ্টি শেষে দূর আকাশে উঠে রংধুকের হার

গোসল দিলে গাছের পাতা দেখায় চমৎকার।


জুলাই স্মৃতি

শাকেরা বেগম শিমু

জুলাই গিয়েছে রেখে

ব্যথাভরা স্মৃতি

জুলাই বীরের তরে

আছে প্রেম ও প্রীতি।

জুলাই শিখিয়ে গেছে

প্রতিবাদী ভাষা

স্বদেশের প্রতি

প্রচুর ভালোবাসা।

(মিশিগান, আমেরিকা থেকে)


বৃষ্টি ভেজা কাক

আশরাফ মাহতাব

বৃষ্টি ভেজা একটি কাক

ডাকছে করুণ কা-কা

উদাসমনে ঊর্ধ্বে তাকায়

আকাশ মেঘে ঢাকা।

নাছোড় বৃষ্টি ছাড়বে কখন

কারো নেইকো জানা

ক্ষুধায় কাঁদছে কাকপাখিটার

ছোট-ছোট ছানা।

কাক পাখিটা ছানাগুলো

রাখে ডানায় ঢেকে

নিজে ভিজেও বুকের মানিক

বাঁচায় বৃষ্টি থেকে।


অঝোর শ্রাবণবৃষ্টি

মাসুম হাসান

ঈশান কোণে মেঘ জমেছে মেঘ

বাড়ছে সাথে হাওয়ার গতিবেগ

পাখপাখালি তাড়াহুড়োয় -

ফিরছে যে যার বাড়ি

খেয়া পারের নৌকাটাও

দিচ্ছে নদী পাড়ি।

হঠাৎ করেই ঝম ঝমা ঝম

বৃষ্টি এলো গাঁয়

পাহাড় থেকে ঝর্ণা নামে

জলের নূপুর পায়।

আকাশভাঙা বৃষ্টি ভিজে

দস্যি ছেলের দল

খেলার মাঠে লুটোপুটি

করছে কোলাহল ॥


খোকার বিশ্বকাপ

সেলিম এমরাজ

নেইমার না মেসি ভালো

খোকা আরও বেশি ভালো

এই কথাটা ফেলো নাকো ঝুট বলে

দুনিয়াটা চিনবে তাকে ফুটবলে

আগামীতে বিশ্বকাপে

খেলবে খোকা, বিধায়

আর্জেন্টিনা, পর্তুগালও

তাই পড়েছে দ্বিধায়

উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে

ব্রাজিল নিবে বিদায়

জার্মানিরা খুঁজছে- কাকে

দিবে শেষে কী দায়।

আপাতত ফিডার খাবে

কাঁদছে খোকা ক্ষিধায়।


বিশ্বকাপ ফুটবল

মো: দিদারুল ইসলাম

ফুটবল নিয়ে দেশে

বেশ মাতামাতি

প্রিয় দল নিয়ে কেউ

করে হাতাহাতি।

দোকানেতে বসে কেউ

করে কানাকানি

কোন্ দল করে কে বা

হয় জানাজানি।

প্রতিদিন খেলা দেখে

কথা কাটাকাটি

হার-জিত নিয়ে কেউ

করে ফাটাফাটি।


চাঁদের বুড়ি

সানজিদা আক্তার মুক্তা

চাঁদের বুড়ি, চাঁদের বুড়ি

সুতা কেটে দিবে?

সুতা কাটার বিনিময়ে

মিষ্টি আতা নিবে।

আমার ঘুড়ির লাটাই হাতে

সুতা গেছে ছিঁড়ে

তাই তো বুড়ি তোমায় ডাকি

লক্ষ তারার ভিড়ে।

সদয় হয়ে একটু সুতা

দাও না চাঁদের বুড়ি

সেই সুতাতে স্বপ্ন বুনে

উড়াই রঙিন ঘুড়ি।


আয়াতুল্লাহ খামেনি

এইচ এস সরোয়ারদী

হারিয়ে গেছে বিশ্ব নেতা

মহান নেতা খামেনি

তাহার জন্য কষ্ট বুকে

একটুখানিও থামেনি।

প্রাণের নেতা হারিয়ে গেছে

পারছিনা আর মানতে

তাহার কফিন এতো ভারী

পারছি না আর টানতে।

হঠাৎ করে হারিয়ে যাবে

ভাবছে কত লোকে

ফুঁপিয়ে কাঁদছে এই বিশ্ব

প্রিয় নেতার শোকে।


বিশ্বকাপের ছড়া

দর্পণ বড়ুয়া

উঠল ঝড় চায়ের কাপে

পড়ার টেবিল তর্কে কাঁপে

দোকান-পাটে ভক্ত চাপে

টেনশানে কেউ রক্ত মাপে

সাপোর্টারে গোলক ধাঁধায়

হট্টগোলে ঝগড়া বাঁধায়।

সবুজ মাঠে কৃতির বড়াই

গোল পোস্টে বলের লড়াই

দল ভেদাভেদ, দিচ্ছে আড়ি

বিবাদ ঘটায় ঘর-সংসারী

কান ফাটা সুর-ভুভুজেলা

বিশ্বকাপ এর জমছে মেলা!


মেঘের নিমন্ত্রণ

মিশকাত উজ্জ্বল

ঝরা পাতার হিমেল হাওয়ায়

উদাস হলো মন;

আজকে নাকি পাড়ায় পাড়ায়

মেঘের নিমন্ত্রণ।

এমন মধুর বর্ষণ দিনে

মন বসে কি পাঠে?

পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে

চল ছুটে যাই মাঠে।