ক্রীড়া ডেস্ক
৮৭ হাজারের বেশি দর্শকে ঠাসা গ্যালারি। স্টেডিয়াম নয়, আদতে এটি মেক্সিকোর দুর্গ এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়াম। পাঁচ গোল, দুই পেনাল্টি, এক লাল কার্ডসহ ঘটনাবহুল ম্যাচ। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে এক লাল কার্ডসহ শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই হলো হাড্ডাহাড্ডি। শেষ পর্যন্ত গ্যালারির গর্জন থামিয়ে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দিলো ইংলিশরা। প্রতিপক্ষ দর্শকদের কাঁদিয়ে দারুণ ৩-২ গোলের জয়ে শেষ আটের টিকিট কাটল ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক এই আজতেকা স্টেডিয়ামে ৯০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তৃতীয় হার এটি মেক্সিকোর।
মেক্সিকো সিটিতে গতকাল ম্যাচের প্রথম ৩৫ মিনিটে স্বাগতিকদের দাপট বেশি থাকলেও পরের ২ মিনিটের মধ্যে দু’টি গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন জুড বেলিংহাম। একটু পরই জুলিয়ান কুইনোনেসের গোলে ব্যবধান কমায় মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টিতে গোল করেন হ্যারি কেন, পেনাল্টিতেই একটি ফিরিয়ে দেন রাউল জিমেনেস। ৫৪ মিনিটে সরাসরি লল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসা। একজন কম নিয়ে প্রবল চাপের মুখেও দারুণ মানসিক শক্তির ছাপ রাখে ইংলিশরা। নির্ধারিত সময় ও যোগ করা সময় মিলিয়ে বাকি ৪৮ মিনিটে ১০ জন নিয়ে খেলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টমাস টুখেলের দল।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেক্সিকো সিটিতে ম্যাচটি শুরু হয় এক ঘণ্টা দেরিতে। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই লুইস রোমোকে বাজে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ডেক্লান রাইস। এরপর অনুমিতভাবেই অবিরাম চাপ তৈরি করতে থাকে মেক্সিকো। ১৫ মিনিটে গোলের প্রথম সুযোগ হারায় মেক্সিকো। ৩৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলরক্ষক পিকফোর্ড বল ধরে দ্রুত বাড়ান রাইসের দিকে। তিনি চোখের পলকে বল নিয়ে ওপরে ওঠে বক্সের কাছে দেন বুকায়ো সাকার দিকে। সেখানে জেসুস গ্যালার্দোকে এড়িয়ে বক্সের মাঝামাঝি চমৎকার ক্রস করেন সাকা। ছুটে এসে নিচু হয়ে নিখুঁত ডাইভিং হেডে বল জালে জড়ান বেলিংহ্যাম। ২ মিনিট পরই মাঝমাঠে গিলবার্তো মোরার কাছ থেকে বল কেড়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে ইংলিশরা। বেলিংহাম বল ধরে এগিয়ে হ্যারি কেনের কাছে দেন। বক্সের ডান পাশ থেকে কেন আবার বাড়ান মধ্যে। জটলার মধ্যে সøাইড করে বলে পা ছুঁইয়ে দ্বিতীয়াবার ইংল্যান্ডকে উল্লাসে ভাসান রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড বেলিংহাম।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়া হতভম্ব মেক্সিকো জেগে উঠে জবাব দেয় দ্রুতই। ৪২ মিনিটে আলভারাদোর ফ্রি কিকে বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে এজরি কনসার পায়ে লেগে বল আসে একটু পেছনে। সেখানে ফাঁকায় অপেক্ষায় থাকা কুইনোনেস ঠাণ্ডা মাথায় ভলিতে পিকপোর্ডকে পরাস্ত করেন।
৫৪ মিনিটে গ্যালার্ডোকে অযথাই বাজে ট্যাকল করেন কুয়ানসা। ভিএআর দেখে তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। এতে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও লড়াই চালিয়ে যায় ইংলিশরা। ৬ মিনিট পরই পেনাল্টি পায় ১৯৬৬ আসরের চ্যাম্পিয়নরা। পেনাল্টি থেকে কোন করেন কেইন। ৬৯ মিনিটে কেনের ফাউলেই ভিএআর দেখে পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। বুদ্ধিদীপ্ত শটে ব্যবধান কমান জিমেনেস।
৮১ মিনিটে ফাঁকায় থেকেও হেড ঠিকমতো নিতে পারেনি আলভারেস। সান্তিয়াগো জিমেনেসের ভলি চলে যায় বাইরে দিয়ে। ৮৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আলভারোর শট সহজেই ধরে নেন পিকফোর্ড। আক্রমণের পর আক্রমণ করেও সমতায় ফিরতে পারছিল না মেক্সিকো। তাদের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় ইংলিশদের রক্ষণ দেয়ালে। আর এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকের প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে বিদায় করে দেয়া নরওয়ে।



