ক্রীড়া প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা, তিন দেশের যৌথ আয়োজনে হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসর। ১১ জুন শুরু হওয়া এ আসরে দেখতে দেখতে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সেমিফাইনাল। ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ২০১০ আসরের শিরোপাধারী দল স্পেন। ফাইনালে জায়গা করে নেয়া দুই দলে আছেন ৫২ জন ফুটবলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাপট ক্লাব ফুটবলে খেলা স্প্যানিশ লা লিগার খেলোয়াড়দের। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্পেনের লিগে খেলেন ২৪ জনই। এর মধ্যে স্পেনের ১৭ জন আর আর্জেন্টিনার ৭ জন। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন ফুটবলার রয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের।
বিশ্বকাপ শুরু হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কোনো লিগের খেলোয়াড়দের এই মেগা আসরে প্রতিনিধিত্ব বেশি। এবার ফাইনালের আগেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। লা লিগায় খেলা এই ২৪ ফুটবলারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ জন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ ফুটবলার খেলেন স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনায়। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা দুই দলের স্কোয়াডে গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে খেলেছেন এমন কেউ নেই। বিশ্বকাপের মাঝপথে তারা চেলসি থেকে যোগ করে মার্ক কুকুরেয়াকে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন ফুটবলার আছেন। ফরাসি লিগ ওয়ানের পাঁচ ফুটবলার আছেন বিশ্বকাপ ফাইনালে। ইতালিয়ান সিরি ‘আ’ জার্মান বুন্দেসলিগা, যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস ও আর্জেন্টিনার লিগা প্রফেশনালের দু’জন করে ফুটবলার আছেন ফাইনালের স্কোয়াডে। এ ছাড়া পর্তুগালের প্রিমেইরা লিগা ও ব্রাজিলের সিরি ‘আ’ লিগের আছেন একজন করে।
বিশেষ করে স্পেনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে লা লিগায় খেলা ফুটবলারদের অবদান সবচেয়ে বেশি। টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে লা লিগার তারকারা ধারাবাহিকভাবে উজ্জ্বল ছিলেন। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার ম্যাচেও তাদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।
বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই লা লিগা প্রতিভা তৈরির অন্যতম সেরা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অতীতেও বিশ্বকাপজয়ী ও শিরোপা লড়াইয়ে থাকা বহু দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এই লিগে খেলেছেন। এবারের ফাইনাল সেই ধারাবাহিকতাকেই আরো একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
লা লিগার এই আধিপত্য শুধু স্কোয়াড আর ফুটবলার সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ না। মাঠেও আছে এই প্রভাব। দুই সেমিফাইনালে চার দলের শুরুর একাদশে থাকা মোট ৪৪ ফুটবলারের ১৬ জন ছিলেন লা লিগার। আর দুই সেমিফাইনালে হওয়া পাঁচ গোলের দু’টি এসেছে লা লিগায় খেলে এমন ফুটবলারের পা থেকে।
স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এবারের ফাইনালকে অনেকেই ‘ফুটবল দর্শনের লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। এক দিকে স্পেনের সংগঠিত, পজেশনভিত্তিক ফুটবল; অন্য দিকে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সমন্বয়। তবে দুই দলের শক্তির একটি বড় মিল হলো- লা লিগায় খেলে গড়ে ওঠা কিংবা বর্তমানে সেখানে খেলা ফুটবলারদের প্রভাব।
বিশ্বকাপের ফাইনালে এর আগে সবশেষ কোনো একক লিগের এমন আধিপত্য দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে। সেবার ইতালি-ফ্রান্স ফাইনালে ছিল ইতালিয়ান সিরি ‘আ’ লিগের আধিপত্য। তবে ব্যতিক্রম ছিল এবার সেমিফাইনালের চার দলের খেলোয়াড়দের। সেখানে বেশি প্রাধান্য ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের। স্পেন ও আর্জেন্টিনা ফাইনাল নিশ্চিতের পর এখন এককভাবে শীর্ষে আছে স্প্যানিশ লা লিগা।



