ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের নিষ্ফল বৈঠক

Printed Edition

ইরনা নিউজ

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। চীন ও রাশিয়ার তীব্র বিরোধিতার মুখে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেশির ভাগ সদস্য দেশ। তাদের দাবি, তেহরানের পরমাণু কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি চালানোর সক্ষমতা হারিয়েছে সংস্থাটি, যা পরমাণু বিস্তার রোধে এক গুরুতর সঙ্কট তৈরি করেছে।

অন্য দিকে, মস্কো ও বেইজিং শুরু থেকেই এই আলোচনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। দেশ দু’টির দাবি, ২০১৫ সালের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের আইনি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে তাদের এই আপত্তির পরও নিরাপত্তা পরিষদের ইউরোপীয় সদস্য বাহরাইনসহ ডেনমার্ক, ফ্রান্স, গ্রিস, লাটভিয়া ও ব্রিটেন বৈঠকটি আয়োজনের পক্ষে অনড় অবস্থান নেয়। ১১টি সদস্য দেশের সমর্থন, দু’টি দেশের বিরোধিতা এবং দু’টি রাষ্ট্রের ভোটদানে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে একটি পদ্ধতিগত ভোটাভুটি পাসের পর শেষ পর্যন্ত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের এটি ছিল তৃতীয় বৈঠক। এর আগে চলতি বছরের মার্চ ও জুন মাসে অনুষ্ঠিত দু’টি বৈঠকও কোনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল।

ইরান এবং পি৫+১ শক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ)-কে অনুমোদন দিতে ২০১৫ সালে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়। এই প্রেক্ষাপটে তেহরান, মস্কো এবং বেইজিংয়ের অবস্থান হলো- প্রস্তাবটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই এর অধীনস্থ সব বিধান, বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বেরও অবসান ঘটেছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর পরিষদের আর কোনো আইনি কর্তৃত্ব অবশিষ্ট নেই। দেশ তিনটি আরো যুক্তি দিয়েছে যে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি কর্তৃক তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া কার্যকর করার প্রচেষ্টা আইনি ও পদ্ধতিগতভাবে অকার্যকর; কারণ মূল প্রস্তাবটির মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে।

বৈঠকের আগে নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখার সময় জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি আনা এভস্টিগনিয়েভা বলেন, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবটির কার্যকারিতা শেষ হওয়ায় এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার কোনো ম্যান্ডেট পরিষদের নেই। তিনি পরিষদের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন উপেক্ষা করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন একটি বিষয় নিয়ে বারবার বৈঠক ডাকা হচ্ছে, যা এখন আর নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে (এজেন্ডা) নেই।