ক্রীড়া প্রতিবেদক
লাইসেন্স করতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী। তাই এবারের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলা হলো না তাদের। অথচ বিগত বছরগুলোতে এএফসির আসরে এই ক্লাবগুলোর ছিল নিয়মিত উপস্থিতি। লিগ চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ- এই দুই দলের লাইসেন্স না থাকায় এবার লিগে তৃতীয় হওয়া ফর্টিস এফসি এবং চতুর্থ স্থান বাংলাদেশ পুলিশ খেলছে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে। ফর্টিস খেলবে দেশের মাঠে। তাদের প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তানের মুরাস এফসি। আর পুলিশ খেলবে জর্দানের মাঠে। অবশ্য তাদের প্রতিপক্ষ জর্দানের কোনো ক্লাব নয়। সিরিয়ার ফুটবল ইতহাসে সবচেয়ে সফল দল আল ইত্তিহাদ আহলি তাদের প্রতিপক্ষ। সিরিয়ার আলেপ্পোর এই ক্লাবটির এখনো নিজস্ব হোম ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাই তারা জর্দানের রাজধানী আম্মানে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে পুলিশের বিপক্ষে। অন্য দিকে, ফর্টিস এফসি তাদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য হোম ভেন্যু করেছে কিংস এরিনাকে। কিংস এরিনা তাদের লিগেরও ভেন্যু ছিল। প্রথম এই আন্তর্জাতিক ম্যাচে জিততে আট বিদেশীকে নিয়েছে ফর্টিস।
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে নিয়ম হলো- প্রতি দলে বিদেশী খেলোয়াড়র নেয়াটা উন্মুক্ত। কোনো নির্ধারিত কোটা নেই। অন্য ক্লাবগুলোর মতো সেই সুযোগই নিয়েছে ফর্টিস। সার্ক কোটা আর অন্য দেশের বিদেশী মিলে তারা আটজনকে নিয়েছে। এর মধ্যে দুজন জাপানি। বাকিদের মধ্যে আছেন শ্রীলঙ্কার গোলরক্ষক সুজান পেরেরা, নেপালের অনন্ত তামাং, এরিখ বিস্তা, গাম্বিয়ার পা ওমর বাবাউ, নাইজেরিয়ার ঈসা জাল্লো এবং নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার চুকুডে। চুকুডে ছাড়া অন্যরা গত লিগে খেলেছেন। আর নতুন হিসেবে নেয়া দুই জাপানি ডিফেন্ডার শুধু এএফসির এই আসরই খেলবেন। এরপর তাদের ফিরে যেতে হতে। এছাড়া ঢাকা আবাহনী থেকে ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইবরাহিম এবং ডিফেন্ডার শাকিলকে নিয়েছে।
অবশ্য আট বিদেশীই খেলবে মুরাসের বিপক্ষে এমন ইঙ্গিত দিলেন না ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম। তার মতে, ‘বিদেশী মানেই যে তারা খেলবেন প্রথম একাদশে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্র্যাকটিসে তাদের পারফর্ম করতে হবে।’ তবে পুরো দলের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার। কারণ ১১ আগস্টের ম্যাচে আগ পর্যন্ত এক মাস সময় পাচ্ছে। মাঝে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে পুলিশের সাথে।
কিরগিজ ফুটবল ক্লাব বাংলাদেশী ফুটবল ক্লাবগুলোর পুরনো প্রতিপক্ষ। সেই এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপ থেকেই তারা বাংলাদেশী ক্লাবগুলোর বিপক্ষে খেলে আসছে। আর গত বছর তো এরই মধ্য এশিয়ান দেশটির ক্লাব মুরাস এফসি জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে দাপুটে জয় আদায় করে নেয়। একচ্ছত্র দাপট দেখিয়েই তারা ২-০ -তে জয় পেয়েছিল আকাশী-নীল শিবিরের বিপক্ষে।
এবারো যথেষ্ট শক্তিশালী দল নিয়ে আসছে মুরাস এফসি। দলের ১৩ ফুটবলারই বিদেশী। এর মধ্যে সাতজন ইউক্রেনের। একজন করে বেলারুশ, রাশিয়া, ব্রাজিল, কাজাখস্তান, ঘানা ও উজবেকিস্তানের। তবে এরপরও এই দলের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ফর্টিসের ম্যানেজার। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, ‘আমরা জয়ের জন্যই খেলব। যেহেতু প্রস্তুতিটা ভালো হচ্ছে, তাই জয়ের আশা করতেই পারি।’
মুরাস এফসি গত বছর আবাহনীকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে উঠে সেখানেও ছিল অপরাজিত। তিন ম্যাচে এক জয় আর দুই ড্রতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে লেবাননের আল আনসারকে ৩-০-তে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেয়। সেমিফাইনালে অবশ্য কুয়েতের আল কুয়েত ক্লাবের কাছে ১-২ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।



