পাইকগাছায় নির্মাণাধীন সড়ক ভেঙে লোকালয়ে লোনাপানি

Printed Edition
সড়কের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে ঢুকছে লোনাপানি : নয়া দিগন্ত
সড়কের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে ঢুকছে লোনাপানি : নয়া দিগন্ত

শেখ দীন মাহমুদ পাইকগাছা (খুলনা)

চিংড়ি ঘেরের লোনা পানির তোড়ে খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ভাঙা অংশ দিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকছে। লোনা পানির কারণে চার দিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ।

উপজেলার শঙ্করদানা খেয়াঘাট থেকে কাটামারী বাজার হয়ে তালতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কের তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ধসে গেছে। সড়কটি ওই এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ভাঙা অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে আমফান প্রকল্পের আওতায় সড়কটির পুনর্নির্নাণের কাজ করছিল মেসার্স জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স। চলতি বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজ বিলম্বের কারণ হিসেবে দুর্গম এলাকায় বালু সরবরাহের জটিলতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলা হয়েছে। কাঠামারী থেকে বোট ও পাইপের মাধ্যমে বালু আনতে হয়। পথে ড্রেজার ও যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি দেখা দেয়ায় বালু ভরাটের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। বর্তমানে সড়কের শেষ অংশের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ফুট বালু ভরাট বাকি রয়েছে। সম্প্রতি সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এলাকাটি তুলনামূলক নিচু হওয়ায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপেই সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট অথবা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে সড়কটি যাতায়াত উপযোগী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।