রংপুর ব্যুরো
মাদক সেবন দেখে ফেলার কারণেই গণপতি পরিবারকে নির্মম হত্যার ঘটনা ঘটেছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়, খুব দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করে বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
গতকাল রোববার দুপুরে রংপুরের চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এই মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তার সাথে ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
এর আগে মন্ত্রী দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন রুম এবং ছাদ পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের জানান, ‘এই হত্যাকাণ্ড একটা লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড, মর্মান্তিক। যার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই।
আমি আজকে তাদের বাসায় এসে যতটুকু বুঝতে পারলাম, যে মাদকাসক্ত হয়ে সবসময়ই বাসার গার্ডিয়ান যে, আমাদের প্রিয় স্যার গণপতি চক্রবর্তীকে হয়তো ডিস্টার্ব করত। সে কারণে হয়তো উনি বাধা দিতে গিয়েছিলেন। সে কারণ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’
ত্রাণমন্ত্রী আরো বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা জানেন, হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটিত হওয়ার সাথে সাথে আমাদের পুলিশ প্রশাসন মূল যে দু’জন আসামি, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমান সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে আমরা কতগুলো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। রামিশাকে যখন হত্যা করা হয়েছিল, রামিশার দ্রুত সময়ে চার্জশিট দেয়া হয়েছে এবং বিচার কাজও শেষ হয়েছে ইতোমধ্যে।’
মন্ত্রী বলেন, আমার নিজ জেলায় (লালমনিরহাট) নন্দিনী নামের একটি কিশোরী মেয়েকে হত্যা করেছিল, সেটাও আমরা ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করেছি। একটু অধিকতর তদন্ত শেষে পুলিশ অতিসত্বর চার্জশিট দাখিল করবে। অল্প সময়ের ভেতরে এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যারা এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের গুজব অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা সেই বিষয়টিকে আড়াল করছে যে মূল আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে হত্যাকাণ্ডের সাথে তারা জড়িত। এখানে তো আর সন্দেহ থাকার কোনো কারণ নেই।’
ত্রাণমন্ত্রী আরো বলেন, আমার মনে হয় যে মাদকই এটার, এই আইনশৃঙ্খলা অবনতির মূল কারণ। মাদকের ব্যাপারে আমরা পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছি। আমরা আশা করি এই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি যেহেতু সর্বোচ্চ শাস্তি এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এবং জনগণসহ আইন-প্রশাসন ছাড়া এই মাদক তো আমরা নির্মূল করতে পারব না।’
আসাদুল হাবিব দুলু আরো বলেন, ‘আমাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায় যদি আমরা ওই ধরনের সামাজিক একটা আন্দোলন তৈরি করতে পারি, তাহলে এই মাদক যারা ব্যবসা করে, যারা মাদক পরিবহন করে এবং যারা মাদক সেবন করে, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।’
এর আগে তিনি শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বেসরকারি ইনস্টিটিউট ইআইটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং উদ্যোক্তাদের মাঝে টুলস বিতরণ করেন।



