গ্রামের পাশে ছিল একটি বড় বন। সেই বনে একটি ছোট হরিণ থাকত। সে ছিল খুব শান্ত ও কৌতূহলী। তার মা তাকে সবসময় সাবধানে থাকতে বলত। কারণ বনের ভেতরে অনেক ঝুঁকি ছিল। শেয়াল, বাঘ এবং শিকারির ভয় ছিল। তবুও হরিণটি মায়ের সাথে দিনের বেলা ঘাস খেত এবং রাতে নিজের নিরাপদ জায়গায় ঘুমাত। একদিন রাতে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠল। পুরো বনটা রূপালী আলোয় ভরে গেল। গাছের পাতায় পাতায় আলো ঝিলমিল করছিল। সেই আলো দেখে হরিণটি খুব অবাক হলো। এমন সুন্দর আলো সে আগে কখনো দেখেনি। সে ধীরে ধীরে গুহার বাইরে বের হলো। তার মনে কৌতূহল আর একটু সাহস কাজ করছিল। সে ভাবল, এই আলো কোথা থেকে আসে? কেন পুরো বন এমন সুন্দর হয়ে গেছে?
ধীরে ধীরে সে সামনে এগিয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে সে বুঝতে পারল, সে মায়ের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে এসেছে। চারদিকে শুধু গাছ আর ছায়া। চাঁদের আলো এখন আর শুধু সুন্দর লাগছিল না। কিছুটা ভয়ও লাগছিল। হরিণটি থেমে গেল। সে মাকে ডাকল। কিন্তু কোনো উত্তর পেল না। তার ছোট শরীর কেঁপে উঠল। সে বুঝতে পারল সে পথ হারিয়ে ফেলেছে। ঠিক তখনই দূরে একটি ছোট খরগোশ দেখা গেল। খরগোশটি শান্তভাবে তার কাছে এগিয়ে এলো। সে বলল, ভয় পেও না। তুমি একা নও। আমি তোমাকে সাহায্য করব। হরিণটি প্রথমে একটু ভয় পেলেও পরে শান্ত হলো। খরগোশ বলল, চাঁদের আলোয় আমরা সহজেই পথ খুঁজে পাব। তুমি শুধু আমার সঙ্গে চলো। আমি তোমাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাব। তারা দুজন ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল। পথে হরিণটি মাঝে মাঝে ভয় পাচ্ছিল; কিন্তু খরগোশ তাকে সাহস দিচ্ছিল। তারা একটি খোলা জায়গায় পৌঁছাল। সেখানে চাঁদের আলো খুব পরিষ্কারভাবে পড়ছিল। খরগোশ বলল, দেখো আলো আমাদের পথ দেখাচ্ছে। ভয় পেলে পথ ভুল হয়। শান্ত থাকলে সব ঠিক থাকে। হরিণটি মাথা নেড়ে বুঝল। কিছুক্ষণ পর দূর থেকে একটি ডাক শোনা গেল। হরিণটির মা তাকে খুঁজছিল। সে দৌড়ে গিয়ে মায়ের কাছে গেল। মা তাকে জড়িয়ে ধরল। মায়ের চোখে আনন্দ আর স্বস্তি দেখা গেল। মা বলল, তুমি আর কখনো একা দূরে যাবে না। হরিণটি শান্তভাবে বলল, আমি বুঝেছি। অচেনা জায়গা দেখতে সুন্দর হলেও সাবধান না হলে বিপদ হতে পারে। খরগোশটি দূর থেকে হাসল। তারপর ধীরে ধীরে চলে গেল। হরিণটি আর তার মা নিরাপদে ফিরে গেল। আকাশে চাঁদের আলো তখনো জ্বলছিল; কিন্তু এখন হরিণটি বুঝতে পারল, এই আলো শুধু সৌন্দর্য নয়! এই আলোর মাঝে লুকিয়ে আছে ভয়ও। তাই আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাইরে জগৎ রঙিন মনে হলেও সেখানে আছে ভয়, বিপদ! তাই পিতা-মাতাকে না বলে আমাদের কোথাও যাওয়া উচিত নয়!হ



