নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়ায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় গাড়ি আটকে রাখা ও পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা মরহুম মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাই মাহাবুব উল্লাহ তপনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। ফলে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর স্থানীয় এমপি আবুল কালামের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে শহরের এক নং রেলগেটের নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। এ সময় সিটি বন্ধন পরিবহনের এমডি দেলোয়ার হোসেন জানান, আপনারা সত্যটা তুলে ধরবেন। আমরা মালিকরা যে কতটা নির্যাতিত এটা তুলে ধরার জন্যই আজকে মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এই ধর্মঘট ডেকেছি।
তিনি জানান, মঙ্গলবার একটি আপত্তিকর ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এক মালিকের গাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে মাহাবুব উল্লাহ তপন। তার এলাকা মিশনপাড়ায় গাড়ি আটকে রেখেছে। চাঁদা না দিলে সে গাড়ি ফেরত দিবে না। আমাদের শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে। শ্রমিকদের মেরে গাড়ির চাকা পাংচার করে গাড়ি রেখে দিয়েছে। চাঁদা দিলে গাড়ি দিবে নয়তো দিবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি। ওসি সাহেব পুলিশ পাঠিয়েছেন। তারা গিয়েও গাড়ি আনতে পারেনি। তাকে পাঁচ লাখ টাকা দিতেই হবে।
তিনি বলেন, সে বলে এই রোড আমার। এই রোড দিয়ে সিটি বন্ধন চলবে না। আমরা অসহায়, আমরা আকুতি করছি। আমরা যেন ন্যায্য বিচারটা পাই। চাঁদাবাজদের কোন আস্তানা যেন না থাকে এটা আমাদের দাবি। সে কতবার চাঁদাবাজির মামলার শিকার হয়েছে। তার ভাই মমিনউল্লাহ ডেভিড তাকে জোরপূর্বক এখানে বসিয়ে দিয়ে গেছে। আমরা সবসময় অসহায় থাকি।
মহানগর শ্রমিকদলের সদস্যসচিব ফারুক হোসেন জানান, আমরা ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য হয়েছি মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাই তপন ১০ দিন আগে চাঁদাবাজির জন্য মৌমিতা গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন প্রশাসন তার বিরুদ্ধে একশন নিলে আমাদের গাড়িটা আজ সে পাঁচ লাখ টাকার জন্য আটকাতো না। মালিকের সাথে তার কোন লেনদেন নেই, সে পাঁচ লাখ টাকা চায়। আমাদের শ্রমিকদের সে মেরেছে এবং গাড়ির চাকা পাংচার করে সেখানে রেখে দিয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তপনকে গ্রেফতার না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে গাড়ি বন্ধ থাকবে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির জানান, আমি এখনই এসপি সাহেবের সাথে কথা বলছি। এ বিষয়ে অবশ্যই আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালামের নির্দেশে তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে বাস চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। এ সময় ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করবেন বলে বাস মালিক ও শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন আবুল কাউসার আশা। পরে তার কথায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন মালিক ও শ্রমিকরা এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আবুল কাউসার আশা বলেন, যারা আপনাদের শ্রমিকদের মারধর করেছে তারা কি বাসে চড়বে? সাধারণ যাত্রীরা উঠবে বাসে। তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আপনারা লিখিত অভিযোগ দিন। এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যাবস্থা নেয়া হবে। আমি নিজের উদ্যোগে এখানে আসিনি, এমপি সাহেব আমাকে পাঠিয়েছেন এটা তার নির্দেশ। এখানে কোনো চাঁদাবাজি করা যাবে না।
তিনি বলেন, পুলিশ আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে যেন আপনাদের কোনো সমস্যা না হয়। আর যে লিখিত অভিযোগ আপনারা করেছেন এ বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যাবস্থা নেয়া হবে এই অঙ্গীকার করছি। যিনি অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



