তিস্তা শুধু রংপুর অঞ্চল নয়, সারা দেশের সমস্যা : পানিসম্পদ মন্ত্রী

Printed Edition
পানিসম্পদমন্ত্রী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেন : নয়া দিগন্ত
পানিসম্পদমন্ত্রী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেন : নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ ও ড্রেজিং করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষকে ইনশা আল্লাহ রক্ষা করা সম্ভব হবে। সেই কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একত্রিত হয়েছি।

গতকাল দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে অবসর রেস্ট হাউজে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, উজানে গজলডোবায় যেভাবে পানির স্রোত আসছে এবং পার্শ্ববর্তী দেশ তাদের গেট খুলে দেয়ায় তিস্তা নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হচ্ছে তাতে নদীতীরের ভাঙন বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘবে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও বাঁধ নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, তিস্তাপাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শুধু এ অঞ্চলের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আমরা আজ একটি টেকনিক্যাল টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি।

এ্যানি আরো বলেন, তিস্তা শুধু লালমনিরহাট ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের দুঃখ নয়, এটি সারা দেশের সমস্যা। প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমানভাবে সম্পন্ন করতে দুই থেকে চার বছর কিংবা ছয় থেকে সাত বছর লাগতে পারে। তবে এর সুফল এ অঞ্চলের মানুষ যেমন পাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও চাঙা হবে। অর্থনীতির ভিত আরো শক্তিশালী হবে। কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের পাঁচ জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হয়ে উৎপাদন ও সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ। এ বিষয়ে আরো অনেক বৈঠক ও আলোচনা প্রয়োজন। কুয়েটে সেমিনার শেষে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো এ প্রকল্পটিও একনেকে উপস্থাপন করা হবে।

এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রীর সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, লালমনিরহাট-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারীর জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় লাগবে ১২ হাজার কোটি টাকা

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এটার জন্য আমি মনে করি বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের জিওবি ফান্ড থেকে এটা করতে পারব। এটার মেয়াদ আছে ১০ বছর। দুই স্তরে কাজ হবে। সুতরাং প্রতি বছর দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা লাগলেও আমরা বরাদ্দ করতে পারব। তবে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশীয় যারা আছেন তাদের সাথে হয়তো বহির্বিশ্বের আরো উচ্চতর যারা জ্ঞান রাখেন এই ব্যাপারে তাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

গতকাল দুপুরে নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রীরা তিস্তার প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন।