এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
জনবল সঙ্কটে ধুঁকছে যশোরের চৌগাছার জগদীশপুর তুলা গবেষণা ও বীজ বর্ধন খামার। এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এ গবেষণা ও বীজ উৎপাদনকেন্দ্রের ২৮টি অনুমোদিত পদের ১৫টিই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় গবেষণা, বীজ উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও খামারের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি। একই সাথে খামারের অভ্যন্তরীণ সড়কসহ প্রবেশপথও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
খামার সূত্র জানায়, বর্তমানে একজন করে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ফোরম্যান, পাম্পম্যান, নৈশপ্রহরী, ড্রাইভার ও জিন মেকানিক কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে দু’জন খামার থেকে বেতন তুললেও অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য দিকে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, স্টোর-কাম-ফিল্ডম্যান, মাঠ সহকারী, বৈজ্ঞানিক সহকারী, কেয়ারটেকার, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর, পাম্প ড্রাইভার, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিসসহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, ক্যাটল কিপার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার ও তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের (ইইসি) আর্থিকসহায়তায় ৬৩ দশমিক ৭০ হেক্টর (১৫৭ একর) জমির ওপর খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান খামারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর সাত হেক্টর জমিতে গবেষণা, ৩৮ হেক্টরে ভিত্তি বীজ, এক হেক্টর জমিতে প্রজনন বীজ ও এক হেক্টরে হাইব্রিড বীজ উৎপাদন করা হয়। এ ছাড়া সবুজ সার, ডালজাতীয় ফসলসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালিত হয় এ খামারে। তবে খামারটির ১৪ দশমিক ৭২ হেক্টর জমি এখনো পতিত রয়েছে।
খামার ব্যবস্থাপক ড. এম জুবায়ের ইসলাম তালুকদার জানান, পাঁচটি ডিসিপ্লিনের আওতায় এখানে গবেষণা কার্যক্রম চলছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে ৮০-৯০ জনের আবাসন ও প্রশিক্ষণ সুবিধা। বৃহত্তর যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ খামার থেকেই উচ্চফলনশীল ও পোকা প্রতিরোধী সিবি-৫ তুলার জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি হাইব্রিড জাত উদ্ভাবনের কাজও চলছে।
স্থানীয় তুলাচাষি মিজানুর রহমান বলেন, একসময় খামারটি ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগের কারণে তুলা চাষও বাড়ছিল। এখন সেই কার্যক্রমের অনেকটাই ভাটা পড়েছে। খামারের প্রবেশপথ ও ভেতরের সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। জনবল না থাকায় মূল্যবান কৃষি যন্ত্রপাতি অযতেœ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: মোজাদ্দীদ আল শামীম বলেন, ‘গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারটি চরম জনবল সংকটে রয়েছে। শূন্য পদে লোকবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ হলে খামারের কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং নতুন নতুন হাইব্রিড তুলার জাত উদ্ভাবন ও উৎপাদন সম্ভব হবে।’



