২০২৭ সাল থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা এগিয়ে এনে এপ্রিলের পরিবর্তে ডিসেম্বর মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সাথে পরীক্ষার বিষয় ও সময় কমানোর উদ্যোগ এবং দেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষাবর্ষের সময় বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম আরো আগে শুরু করার লক্ষ্যেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এগিয়ে আনার এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে, তবে সবদিক বিবেচনায় ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসে নেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা একমত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সংক্রান্ত আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসে আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এ দিকে একই দিন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পাবলিক পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা থেকেই এ পদ্ধতি চালু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর চিন্তাভাবনা চলছে। তার মতে, দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য একই মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলো যদি অভিন্ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশেও তা সম্ভব।
তবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। রাজধানীর এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সারা দেশে একই সিলেবাস অনুসরণ করা হলেও উত্তরপত্র মূল্যায়ন ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষক দ্বারা সম্পন্ন হয়। ফলে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একই মান বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পর প্রাথমিকভাবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হলেও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ২০১৪ সালের পর থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলো আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া শুরু করে। অনেকের মতে, অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু হলে কোনো একটি স্থানে প্রশ্নফাঁস হলে তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্য দিকে আলাদা প্রশ্নপত্র থাকলে নির্দিষ্ট বোর্ডভিত্তিক সমস্যার সমাধান করা তুলনামূলক সহজ হয়।
অপর দিকে, আগামী বছর থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় বিষয়সংখ্যা কমানোর বিষয়েও নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এই কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষার বিষয় কমানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সবমিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে আরো সময়োপযোগী, সংক্ষিপ্ত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



