নিজস্ব প্রতিবেদক
সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার সিজারিয়ান অপারেশান করায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (৩০)। গত বৃহস্পতিবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর থেকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছিল তাকে। কিন্তু চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে আস্থার সেই হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করছেন স্বজনরা।
জান্নাতুল ফেরদৌসের ভাই শাহাদাৎ হোসেন অভিযোগ করেন, তার বোন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় সন্তান। আরিয়ান নামে তার চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। কনসিভ করার পর জান্নœাতুল চাঁদপুরের মতলব এলাকায় নিয়মিত ডাক্তার দেখাতেন। গত বৃহস্পতিবার প্রসবসংক্রান্ত সমস্যা হওয়ায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, পেটের বাচ্চার ওজন কম। শিশুটি জন্ম নেয়ার পর কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা ওই হাসপাতালে নেই। যার কারণে তারা জান্নাতুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এরপর রাতেই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা।
শাহাদাৎ আরো বলেন, রাত ১টার দিকে তারা ঢাকা মেডিক্যালে পৌঁছান। এরপর জান্নাতুলকে ভর্তির পর থেকে শুরু হয় ওষুধ ও রক্ত কেনার দৌড়ঝাঁপ। প্রথমে চার হাজার টাকার ওষুধ কিনে নার্সদের হাতে দেয়ার কিছু সময় পর তারা বলেন, ‘ওষুধ হারিয়ে গেছে, পুনরায় কিনে আনেন’। পরে আরো নতুন ওষুধ যোগ করে দেয়ায় দ্বিতীয়বার সাত হাজার টাকার ওষুধ কিনে দেয়া হয়। এ ছাড়া চার ব্যাগ লাল ও দুই ব্যাগ সাদা রক্তের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর শুরু হয় অপারেশন। ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসক জানান, অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। একটি মেয়ে সন্তান হয়েছে। দু’জনই সুস্থ আছেন। এরপর নার্স-ওয়ার্ড বয় মিষ্টি খেতে তাদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা বখশিস নিয়ে যান।
পরিবারের সবাই যখন বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ত তখন নার্স এসে জানায় জান্নাতুলের শারীরিক সমস্যা হচ্ছে। তাকে আবার অপারেশন করতে হবে। নতুন করে ওষুধ ও সাত ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে হবে; কিন্তু কী সমস্যার কারণে আবার অপারেশন করতে হবে, সে ব্যাপারে কেউ কিছুই বলেন না; শুধু ডাক্তার-নার্স ছুটাছুটি করতে থাকেন। এরপর নতুন রক্ত ও ওষুধ এনে দিলে বেলা সাড়ে ১১টায় পুনরায় অপারেশন শুরু করেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘ সময় অপারেশন থিয়েটারে থাকার পর দুপুর পৌনে ২টার দিকে চিকিৎসকরা ওটি থেকে বের হয়ে বলেন জান্নাতুল মারা গেছেন।
শাহাদাৎ বলেন, মানুষের মৃত্যু হতেই পারে; কিন্তু এটা কেমন মৃত্যু। প্রথম অপারেশনে সব ভালো ছিল। তার প্রশ্ন, পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তাকে কেন দ্বিতীয় বার অপারেশন করতে হলো? কী ঘটেছিল জান্নাতুলের সাথে? মৃত্যুর পর রোগীর ফাইল থেকে নার্সরা অনেক কাগজ সরিয়ে নিয়ে গেল কেন? তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা ঢাকা মেডিক্যাল। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী আসে এ হাসপাতালে। সেখানে যদি এমন ভুল ও খামখেয়ালি করে রোগীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে। নিহত জান্নাতুলের স্বামী আহম্মদ উল্লাহ একজন কৃষক। স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে তিনি চার বছরের ছেলে ও সদ্য জন্ম নেয়া মেয়েকে বুকে জড়িয়ে হতবিহবল হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।



