পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে শ্রীরামপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধায় নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
সোমবার ও মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে দুই দফা শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায় সীমান্তের প্রধান ৮৪৫ মেইন পিলারের ১ নম্বর সাবপিলারের কাছে কামাতটারী এলাকার বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার হাড়িকামাত সীমান্ত এলাকার শূন্যরেখায় সোমবার দুপুরে প্রায় ৫০ গজ জায়গায় ভারতীয় লোকজনের সহায়তায় বিএসএফ একসারি বিশিষ্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সিমেন্টের তৈরি খুঁটি স্থাপন চেষ্টা চালায়। ভারতের অভ্যন্তরে ১৫০ গজ নো ম্যানস ল্যান্ডের প্রায় ৩০ গজ ছেড়ে ৩-৪ ফুট উচু খুঁটি স্থাপন করতে থাকে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী ক্যাম্পের টহল দল। এ সময় বিজিবি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নির্মাণকাজে বাধা দিলে বিএসএফের সদস্যরা বিজিবির সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিজিবির তীব্র প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদ্যসরা নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমিকদের নিয়ে চলে যায়।
গতকাল মঙ্গলবার পৌনে ১টার দিকে আবারো একই সীমান্তের মেইন পিলার ৮৪৫ নম্বরের ১ নম্বর সাবপিলার থেকে ২ নম্বর সাবপিলারের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ী খেংটি এলাকায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে থাকে বিএসএফ। এইদিনও বিজিবি বাধা দেয়। কিন্তু বিএসএফ বাধা উপেক্ষা করে নির্মাণের চেষ্টা চালালে কঠোর অবস্থান নেয় বিজিবি ক্যাম্পের টহল দল। পরে বেলা সোয়া ১টায় ঘটনাস্থলের ওই পিলারের কাছে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আলাউদ্দিন ও ভারতের পানিশালা কোম্পানির কমান্ড্যান্ট ইন্সপেক্টর শচীন রায় উভয় দেশের ছয়জন করে প্রতিনিধিদলের সদস্য নিয়ে অংশ নেন। বৈঠকে বিএসএফকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেড়া নির্মাণকাজ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় বিজিবি। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া নির্মাণকাজ বন্ধে উভয়পক্ষ একমত হয়।
স্থানীয়রা দাবি করেছে বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। ওই সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থান নিয়ে টহল জোরদার করেছে। বিপরীতে বিএসএফও অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে অবস্থান নিয়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অধিনায়কের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে ‘২০ ও ২১ জুলাই সীমান্ত পিলার ৮৪৫-এর ১ ও ২ সাবপিলারের সীমান্তে প্রায় ১০০ ও ৫০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের পানিশালা-১ ক্যাম্পের সদস্যরা পূর্বে স্থাপিত বাঁশের খুঁটি সরিয়ে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করার কথা জানিয়ে বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা চলে যায় বলে জানিয়েছে।’



