১৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

বৃষ্টির মধ্যেই কার্পেটিং করা হচ্ছে, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

Printed Edition
সংস্কারের পরপরই ভেঙে পড়ছে সড়ক : নয়া দিগন্ত
সংস্কারের পরপরই ভেঙে পড়ছে সড়ক : নয়া দিগন্ত

মো: নূরুল ইসলাম চাটমোহর (পাবনা)

পাবনার চাটমোহর উপজেলার তেনাচিড়া-কাটাখালী সড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামত প্রকল্পের নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে সড়কের কয়েকটি অংশে দৃশ্যমান ত্রুটি দেখা দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে এজিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও এজিং হেলে পড়েছে, আবার কিছু স্থানে ভেঙে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে দ্রুত বিটুমিনের প্রলেপ দেয়া হয়েছে। এতে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিংয়ের কাজ করার বিষয়টি। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২৬ মে, ঈদুল আজহার দুই দিন আগে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের আধা কিলোমিটারের বেশি অংশে পিচ ঢালাই করা হয়। নির্মাণকাজে আবহাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বৃষ্টির মধ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের মান নিয়ে আরো সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তদারকিরও ঘাটতি রয়েছে। ফলে বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে এমন ত্রুটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তেনাচিড়া-কাটাখালী সড়কটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর উন্নয়নকাজ শুরু হলেও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্থানীয়রা এখন হতাশ। তারা প্রকল্পের কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সাথে সড়কটির টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো: এনামুল কবির বলেন, কাজটি এখনো চলমান। কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে তা ঠিক করে দেয়া হবে। ঠিকাদারের জামানত এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধান করা হয়। বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, কাজ শুরুর সময় বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মনিরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।