অনলাইন জুয়ায় প্রতিদিন হাজার কোটি টাকা পাচার

পেমেন্ট কোম্পানির অধিকাংশ চীনাদের নিয়ন্ত্রিত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে পরিচালিত জুয়ার ওয়েবসাইটসমূহে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দৈনিক ৭০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার ওপর লেনদেন হয়, যা দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশকেন্দ্রিক জুয়ার সাইটে যেসব পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে তার অধিকাংশই চাইনিজ নাগরিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গাজীপুর ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনার বিপুল সরঞ্জামসহ একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপি জানায়, অবৈধ এই জুয়া পরিচালনার মাধ্যমে চক্রের মূলহোতা আরিফুল দৈনিক পাঁচ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করতেন। আর দেশের বাইরে থেকে এই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করতেন চীনের নাগরিক নাতান। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ছয় হাজার ৬০০টি এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট সংবলিত সিমকার্ড, ৬৭টি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, ৭০টির বেশি মোবাইল ডিভাইস ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

ডিএমপি আরো জানায়, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস পরিচালনার কাজে অনেকগুলো পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে। সেগুলো হলো পে কাশমা, গো পে, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্স-ই পে, কুল পে প্রভৃতি। এসব পেমেন্ট কোম্পানির বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রচলিত লেনদেনের মাধ্যম প্রয়োজন হয়। যার মাধ্যমে তারা অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশীদের কাছ থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে।

আরিফের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে পূর্বাচলে একটি বিএমডব্লিউ উল্টে গেছে। এরপর তিনি আবার একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন। পুলিশ যখন তাকে লোকেটের চেষ্টা করে ঠিক তখন তিনি জায়গা পরিবর্তন করে অন্য কোনো নামীদামি হোটেলে রুম ভাড়া করে থাকতেন। দীর্ঘদিন তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই কৌশল অবলম্বন করতেন।

এদিকে গত ১১ জুলাই যাত্রাবাড়ীর দনিয়ায় একটি বহুতল ভবনের ফ্যাটে শাহিদা আক্তার নামে এক নারীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই সাথে বাসায় থাকা স্বর্ণালঙ্কার, ইমিটেশন গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে পারভীন আক্তার বাদি হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে এই কু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচি ও চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ ফারুক (২৭) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ ছাড়াও যাত্রাবাড়ী থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে সাতজন নিয়মিত মামলায়, তিনজন পুরাতন মামলায়, দু’জন গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে, ২২ জনকে মোবাইল কোর্ট মোতাবেক এবং গ্রেফতার করা হয়।

অন্য দিকে ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই হাজার ৫৬৬ পিস ইয়াবা, ১৬৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম গাঁজা, ৪৫টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৮৪টি মোবাইল ফোন, দু’টি মোটরসাইকেল, দু’টি এসএসডি কার্ড, দু’ইটি হার্ডডিস্ক, একটি ভুয়া এনআইডি কার্ড, একটি হ্যান্ড পাঞ্চ ও আট লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তা ছাড়া বনশ্রী থেকে কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মো: মাহাফুজ উল্লাহ সিদ্দিকীকে (৪০) ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে দু’জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।