বিশেষ সংবাদদাতা
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ তুলে দেবার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি প্রতিটি ওয়ার্ডে নারীদের সরাসরি ভোটের আয়োজন চায়। একইসাথে আওয়ামী লীগের মতো নিষিদ্ধ বা স্থগিত হওয়া দলের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান আনার দাবি জানিয়েছে দলটি। এ ছাড়া দলটি নির্বাচনী প্রচারণায় টিভি বা ভিসিআর নিষিদ্ধ, এমপি-মন্ত্রীদের প্রচারণায় অংশ নেয়া নিষিদ্ধ এবং গণমাধ্যমের ভোট কেন্দ্রে অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করার কথা বলেছে ।
গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনের ওপর মতামত আহ্বান করলে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো জানানো হয়। ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মোট ৯টি প্রস্তাব ও দাবি সংবলিত একটি চিঠি পাঠান।
জামায়াতে ইসলামীর দেয়া প্রধান দাবি ও প্রস্তাবগুলো হলো : ডিজিটাল প্রচারণার নীতিমালা প্রসঙ্গে নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিসে টেলিভিশন বা ভিসিআর ব্যবহার নিষিদ্ধের পাশাপাশি এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর ও ল্যাপটপের মতো আধুনিক ডিজিটাল উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা সংযোজন করতে হবে। আর মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা এবং প্রচার-প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের তালিকায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বিধিমালা তৈরি করতে হবে।
গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকারের দাবি জানিয়ে দলটি বলেছে, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করতে বিধিমালায় সুস্পষ্ট ধারা যুক্ত করতে হবে। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে কমিশন কর্তৃক কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আপিল করার সুযোগও বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অযোগ্য ঘোষণার প্রসঙ্গে বলছে, সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতাকর্মীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান আনতে হবে। আর প্রশাসকদের নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার কথা বলে জামায়াত বলছে, স্থানীয় সরকার বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পদে নিযুক্ত কোনো প্রশাসক সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এই মর্মে বিধান সংযোজন করতে হবে।
বিশেষ দু’টি প্রস্তাবনায় দলটি বলছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদ্ধতি বাতিল করে নারীদের সরাসরি সাধারণ মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে। আর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে কারা ভোটার হবেন, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।



