ফলের রসেও কমে বিষণœতা

Printed Edition

প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস পান করা শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফলের রস বা স্মুদি পান করার সাথে বিষণœতার মাত্রা কমার সম্পর্ক রয়েছে।

ফলের রসে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। এসব উপাদান শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। পাশাপাশি ফল খাওয়ার পরিমাণ বাড়ালে খাদ্যতালিকায় আঁশ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও বাড়ে। ফলে সামগ্রিকভাবে শরীর ভালো থাকলে মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষ করে যারা নিয়মিত ফল ও সবজি কম খান, তাদের খাদ্যতালিকায় ফলের রস যোগ করা ফল গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর একটি সহজ উপায় হতে পারে। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সপ্তাহের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফল ও সবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস পান করা ব্যক্তিদের বিষণœতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

ফল ও সবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য উপকারী উপাদান সরবরাহ করতে পারে।

গবেষকেরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ফলের রস গ্রহণ মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। কিছু আগের গবেষণাতেও সাইট্রাস বা লেবুজাতীয় ফলের রসের সাথে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ও চিন্তাশক্তির উন্নতির সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু ফলের রস খেলেই বিষণœতা বা মানসিক চাপ দূর হবে, এমনটা বলা যায় না। নিয়মিত ঘুম, শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্যও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফলের রস উপকারী হলেও পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। একসাথে বেশি ফলের রস পান করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ ১০০ শতাংশ ফলের রস বা স্মুদি নেওয়া যেতে পারে। ফলের রসের সাথে চিনি, সিরাপ বা অতিরিক্ত মিষ্টি উপাদান না মেশানোই ভালো। বিশেষ করে বাজারের প্যাকেটজাত পানীয় কেনার সময় সেটি ১০০ শতাংশ ফলের রস কি না এবং এতে বাড়তি চিনি আছে কি না, তা দেখে নেয়া উচিত। ইন্টারনেট।