সাক্ষাৎকার : আকবর হোসেন

বিএনপি গণভোটের রায়কে একটা সময় মেনে নেবে

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition
বিএনপি গণভোটের রায়কে একটা সময় মেনে নেবে
বিএনপি গণভোটের রায়কে একটা সময় মেনে নেবে

সিনিয়র সাংবাদিক আকবর হোসেন বলেছেন, বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনেক পক্ষকে এক সাথে নিয়ে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। বিএনপির ভাবনা জামায়াত বা এনসিপির সাথে মিলবে না। অন্য দলগুলোর সাথে বিএনপির রাজনৈতিক চিন্তাধারার একটা পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে বিএনপির এবং কিভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্থিতিশীল রাখা যায়, কিভাবে স্বস্তির সাথে কাজ করা যায় এ ধরনের ভাবনা থেকেই হয়তো বিএনপি যেসব অধ্যাদেশগুলো রহিত হয়ে গেছে সেগুলো নিয়ে আরো আলাপ আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

আকবর হোসেন বলেন, গণভোটের ওপর সম্মান করা উচিত এবং জনগণের রায়ের ওপর আর কোনো রায় নাই। বিএনপি হয়তো একটা সময়ে গণভোটের রায়কে মেনে নেবে। এ রায়কে বাতিল করবে না। গণভোটের রায় হয়ে যাওয়ার পর বাড়তি আরেকটি শপথ নেয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল মনে করি না। পার্লামেন্টে ডিবেট করে সরকারের ওপর গণভোটের রায় ও সংস্কার বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করা যায়।

তিনি বলেন, যারা দুর্নীতি করেছে, মানুষকে হত্যা করেছে তাদের বিচার করতে হবে। কিন্তু যাদের হাতে রক্তের দাগ নেই, হত্যাকে উসকে দেয়ার অভিযোগ নাই, যাদের বিরুদ্ধে এলাকায় জুলুম করার অভিযোগ নাই তারা আমার আপনার আশপাশেই থাকে, এই সমাজের বাসিন্দা। ছোট সমাজে এরা অনেকে আমাদের স্বজন। সমাজে তাদের অ্যাকোমোডেট করতে হবে। একটা পর্যায়ে বিচারের পর পলিটিক্যাল নেগোসিয়েশন বা রিকনসিলিয়েশনের দিকে যেতেই হবে। রাজনীতি কখনো স্ট্যাটিক বিষয় নয়। স্থির নয়। রাজনীতি প্রবহমান। আজকে যে রাজনৈতিক দলটি অন্য রাজনৈতিক দলের অ্যালাইন পাঁচ বছর তা নাও থাকতে পারে। পাঁচ বছর পর রাজনীতির গতিপ্রকৃতি এখন আমরা অনুধাবন করতে পারব না। আজকে যারা আওয়ামী লীগকে চরম শত্রু হিসেবে দেখছে পাঁচ বছর পর আওয়ামী লীগ তাদের কাছে অ্যালাইন হতে পারে। পলিটিক্স ইজ আর্ট অব কমপ্রোমাইজ। রাজনীতিতে কোনো সম্ভাবনাকেই নাকচ করা যায় না।

প্রায় দুই দশকের বেশি সময় আকবর হোসেন বিবিসিতে সাংবাদিকতা করেন। এখনো সাংবাদিকতায় থাকতে নিজের প্ল্যাটফর্ম সেটআপ করছেন আকবার হোসেন। পাশাপাশি টেলিভিশন টকশো থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিডিয়ায় রাজনৈতিক মতামত ও বিশ্লেষণ করছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যে প্রেস মিনিস্টার পদে যোগ দিলেও কাজের কাক্সিক্ষত পরিবেশ না থাকায় আত্মজিজ্ঞাসা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার তাগিদে পদত্যাগ করেন তিনি।

নয়া দিগন্ত : জুলাই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিপুল জন-আকাক্সক্ষা এবং এর বিপরীতে রাজনৈতিক দলগুলোর পুনর্গঠন, দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার, এসব মিলিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আকবর হোসেন : আবার বিপ্লব বা অভ্যুত্থান কিন্তু প্রতিদিন হবে না। সবকিছুকে অভ্যুত্থানের লেন্স বা ন্যারেটিভ দিয়ে দেখি সেটাও ঠিক হবে না। বিপ্লব হয়েছে এবং মানুষ বলে দিয়েছে কী করতে হবে। মানুষ যদি সার্টেইন সময়ের মধ্যে এই কাজগুলো না পায় তাহলে আবার অভ্যুত্থান ঘটবে। রাজনীতিতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দেশে দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি না থাকায় এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে না পারায় অনেক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। গত নির্বাচনের মতো আরো কয়েকটি নির্বাচন করতে পারলে এ ধরনের সঙ্কট দূর হয়ে যাবে।

নয়া দিগন্ত : ভূকৌশলগত অবস্থান, স্বাধীন কূটনীতি বা অর্থনৈতিক কূটনীতিতে একটা ঘাটতি রয়েছে, রোহিঙ্গা সঙ্কট, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়ে গেল, পুশইনের শঙ্কা দেখতে পাচ্ছি, এ ধরনের বার্নিং ইস্যু কি আমাদের মিডিয়া যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করতে পারছে?

আকবর হোসেন : আমারতো মনে হয় করছে। কেউ না কেউ করছে। আমি নিজেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ওপর কী ইমপ্যাক্ট পড়বে এগুলো নিয়ে একাধিক টেলিভিশন টকশোতে পার্টিসিপেট করেছি। ভূরাজনীতি ও রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়েও কিন্তু কম কথাবার্তা হয়নি, কম হচ্ছে না। এখন নির্ভর করবে যখন নতুন ইস্যু আসবে বা কোনো ঘটনা ঘটে মিডিয়াকে তো সেটা অ্যাড্রেস করতে হয়। এইতো মিডিয়ার ন্যাচার। সে অনুযায়ী মিডিয়া অ্যাক্ট করে বলে আমার কাছে মনে হয়।

নয়া দিগন্ত : পুশইনের ব্যাপারে কিভাবে সতর্ক থাকা যায়, কিভাবে মোকাবেলা করা উচিত এ সঙ্কটটি।

আকবর হোসেন : পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের রেজাল্ট যেদিন হলো সেদিন বাংলাদেশ সরকার কিন্তু বলেছে তারা অ্যালার্ট। যদি সে রকম কিছু হয়েও থাকে তাহলে বাংলাদেশেও যে রকম যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া দরকার সেটা তারা নেবে, হুইচ ইজ ভেরি গুড। সরকার নিশ্চয় এ সম্পর্কে অ্যালার্ট আছে। শঙ্কা রয়েছে কারণ ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারতে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, বিভাজন বললেও ভুল হবে, সেখানে মুসলমানদের যেভাবে পার্সিকিউট করা হচ্ছে এবং হিন্দুত্ববাদীর একটা স্লোগান সামনে এনে মুসলমানদের যেভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে, তাদেরকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হচ্ছে ভারতে। সেই বিষয়টি তো পশ্চিমবঙ্গে আমরা দেখেছি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘটেছে। অ্যান্টি বাংলাদেশী স্লোগান দিয়ে নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে, নির্বাচনের মূল স্লোগান ছিল বাংলাদেশ বিরোধিতা, তারা তো ক্ষমতায় চলে এসেছে, এখন অ্যান্টি বাংলাদেশ সেন্টিমেন্টটা তারা যে সামনে আরো ভালোভাবে ইউজ করবে না সেটা তো বলা যাচ্ছে না। নিশ্চয়ই তারা করবে বা যেভাবে হোক তারা তা করার চেষ্টা করবে। আমাদের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

নয়া দিগন্ত : আমাদের তো প্রস্তুতি থাকার প্রয়োজন আছে, কূটনৈতিকভাবে।

আকবর হোসেন : হ্যাঁ নিশ্চয়ই। রাজনৈতিকভাবে সরকার যেটা করতে পারে দ্বিপক্ষীয়ভাবে, ভারতের ভেতরে কী ঘটছে সে নিয়ে আমরা হয়ত ইনফ্লুয়েন্স করতে পারব না, কিন্তু ভারতের পরিস্থিতি যদি বাংলাদেশে প্রভাব ফেলে তাহলে বাংলাদেশের চিন্তা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সে রকম কোনো ঘটনার ইঙ্গিত পেলে বাংলাদেশ যথাযথ ফোরামে সেটা ভারতকে বলতে পারে। কোনো লক্ষণ প্রকাশ পেলে ভারতের কাছে তুলে ধরা এবং একই সাথে সীমান্ত এলাকাগুলোতে আমাদের অ্যালার্ট থাকা দরকার। যদি নতুন করে পুশইনের কোনো ঘটনা ঘটে। অতীতে যা দেখেছি, ভারতে ভারতীয়দেরকে ধরে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। কেবল মুসলিম বলে। এরকম ঘটনা বাংলাদেশে উদঘাটনও হয়েছে। বিবিসি রিপোর্ট করেছে ভারতীয় এক নারীকে বাংলাদেশের বস্তিতে পাওয়া গেছে।

নয়া দিগন্ত : বিএনপি সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসেছে, এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা কি জন-আকাক্সক্ষা পূরণে কোনো ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে?

আকবর হোসেন : রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশে প্রেডিক্ট করা খুব মুশকিল। বড় ধরনের মেজরিটি পেয়ে গেলে কোনো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়তো কঠিন হয়ে যায় কিন্তু একই সাথে মনে রাখা দরকার মানুষ যদি ভোট দিয়ে দেয় তো সেখানে আর কিছু করার নাই। সরকারতো জনগণের ভোটেই হয়েছে। মানুষ তাদেরকে বেছে নিয়েছে দুই-তৃতীয়াংশে। মানুষ তাদের কেন বেছে নিয়েছে সেটা নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীনদের অজানা থাকার কথা না। যদি তারা বুঝে থাকে, আর যদি না বুঝার ভান করে তাহলে তো সেটা ভিন্ন আলাপ। আমার মনে হয় সরকার বুঝবেন, এ সরকার এসেছে মাত্র তিন মাসের কাছাকাছি, হয়তো সরকারকে নিয়ে মন্তব্য করা এটা একটু টু আর্লি। যে কোনো সরকারের জন্য অন্তত ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকে। ছয় মাস পরে আমরা বলতে পারব আসলে সরকার কোন দিকে যাচ্ছে, কোন পথে হাঁটবে। এবং তাদের যে ইস্যুগুলো অ্যাড্রেস করার কথা সেগুলো তারা করবে কি না, নাকি সেগুলো পাশ কাটিয়ে যাবে। এটার জন্য আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

নয়া দিগন্ত : দলীয়করণের একটা শঙ্কা থাকে, প্রশাসনে, ব্যবসা বাণিজ্যে, আবার দীর্ঘদিন তৃণমূলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছে, এখন শুধু বিএনপি কেন সব রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে নজর দিতে পারে?

আকবর হোসেন : নিশ্চয়ই নিতে পারে। আমাদের সঙ্কট হচ্ছে দেশেই তো গণতন্ত্র ছিল না। দলের মধ্যে গণতন্ত্র থাকবে কি? বাংলাদেশে পাঁচ বছর পরপর যে সাধারণ নির্বাচন হয়, একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি আমাদের থাকতে হবে। এটা যদি স্টাবলিস্ট করতে পারি প্রতি পাঁচ বছর পরপর তাহলে বাকি চাওয়াগুলো একটা অংশে ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের ইতিহাসে নির্বাচন করার কালচারই নাই। পরপর তিনটা সাধারণ নির্বাচন আমরা ভালোভাবে করতে পারি নাই। এমনকি দুটোও পারিনি। যদি দেশের মধ্যেই গণতন্ত্রের কালচার না থাকে তাহলে বাকিগুলো তো পরের কথা। গণতন্ত্রের মূল শর্ত হচ্ছে নির্বাচন। বাকি যা আছে ওগুলো তিন, চার, পাঁচ নম্বর শর্ত।

নয়া দিগন্ত : তরুণদের আত্মত্যাগের পর এখন তাদের পড়াশুনায় ফিরে যাওয়া উচিত অনেকে বলেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা তহবিল থেকে শুরু করে যুগোপযোগী মানসম্পন্ন জ্ঞানচর্চার অভাবও রয়েছে যার ফলে গ্লোবাল ভিলেজের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আকবর হোসেন : শিক্ষাব্যবস্থাকে যেভাবে সাজানো দরকার ছিল ওভাবে সাজানো হয়নি। বিগত সরকারের সময় ঘোষিত হোক বা অঘোষিত হোক একটা পলিসি নেয়া হয়েছিল যে জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু একটা ফল্টি ধারণা। আমাদের মতো দেশের প্রেক্ষাপটে এটি ভুল ধারণা। সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে হবে সেটাতো না, একটা সার্টেইন লেভেল পর্যন্ত টেকনিক্যাল, ভোকেশনাল বা কারিগরি শিক্ষায় যেতে হবে। যারা গবেষণায় আগ্রহী তারা হয়তো উচ্চশিক্ষা নেবেন। সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর মেন্টালিটি থেকে সরে আসতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী পড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে সেখানে হয়তো ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াচ্ছি। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ই থাকবে গবেষণামুখী, গবেষণা বিভাগ থাকবে। নট অনার্স পড়াবেন মাস্টার্স পড়াবেন ব্যাপারটা ওরকম না। একদিকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং জনশক্তি রফতানির চিন্তা মাথায় রাখার পাশাপাশি মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়ে গবেষণায় নিতে হবে। সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে হবে বিষয়টি এমন নয়। মাস্টার্স পড়েও দক্ষ না হওয়ার কারণে বিদেশে যেয়ে অন্যদেশের জনশক্তির চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম আয় করছে আমাদের ছেলেরা। বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে সেখানে পড়াব ব্যাপারটা ওরকম না।

নয়া দিগন্ত : ছাত্ররাজনীতিতে মেধার পরিচয়, বিতর্ক, খেলাধুলা, মননের চর্চায় একটা শিফ্ট হওয়া উচিত নয় কি?

আকবর হোসেন : বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদের নির্বাচনটা প্রপারলি হওয়া উচিত। নিয়মিত নির্বাচন হলে সেখানে অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে। চাইলেই কোনো ছাত্রসংগঠন নিপীড়কের ভূমিকায় যেতে পারবে না। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কথা তাদের চিন্তা করতে হবে। প্রশাসনকেও চিন্তা করতে হবে। ছাত্র সংসদের নির্বাচনটা নিয়মিত হলে ক্যাম্পাসভিত্তিক নানা অস্থিরতা, বাইরের প্রভাব যা কিছু দেখি না কেন ওই জায়গার সমাধানটা হবে।

নয়া দিগন্ত : বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক চলছে।

আকবর হোসেন : গুপ্ত রাজনীতি রাজনৈতিক দলগুলোকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। আওয়ামী লীগ কথায় কথায় যে কাউকে জামায়াত কিংবা শিবির বলত। সে বিষয়টি আওয়ামী লীগের জন্য ভালো ফলাফল দেয়নি। বিএনপির ভেতর অনেকে এখন সত্যিকথা বলতে ভয় পায়, তাকে যদি আবার গুপ্ত হিসেবে ট্যাগ করা হয়। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী পরস্পরকে গুপ্ত হিসেবে সন্দেহ করছে। নানাভাবে ব্র্যান্ডিং ও ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করছে। বছরের পর বছর আওয়ামী লীগ করেছে যাদের বোনাফাইড আওয়ামী লীগার বলা যায়, দশকের পর দশক ধরে আওয়ামী লীগ করেছে যাদের আওয়ামী লীগ অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না, এমন ব্যক্তিকেও একপর্যায়ে জামায়াত শিবির বলে গালি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের একজন আরেক জনকে কোণঠাসা করার জন্য যাতে তারা ক্ষমতার কাছাকাছি আসতে না পারে কিংবা ক্ষমতায় বা সরকারে থাকলেও তারা বিতর্কিত হয়ে পড়ে এজন্য তাদের গুপ্ত হিসেবে ট্যাগ করা হয়। বিএনপির রাজনীতির জন্য এটা খুব নেগেটিভ বিষয়। যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে তাহলে বিএনপির ভেতরে ভালো কাজ ও মন্দ কাজ নিয়ে কেউ আর পার্থক্য করবে না। বিএনপি এটাকে অ্যাড্রেস করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের গুপ্ত ট্যাগ বা বিতর্ক দলটির জন্য খুব অসহনীয় হয়ে উঠবে। আওয়ামী লীগের লোকজন এই সুযোগটা নেবে, আওয়ামী লীগের অনেকে নতুন বিএনপি হয়ে অরিজিনাল বিএনপিকে বলছে এ তো জামায়াতের লোক।

নয়া দিগন্ত : মানুষের চাহিদা অনুযায়ী মিডিয়া সঠিকভাবে নজর দিতে পারছে কি? অনেক সময় মনে হয় অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে সাংবাদিকতা, যতটা নজর দেয়ার সেখানে কি ঘাটতি আছে?

আকবর হোসেন : এটা সাবজেক্টিভ ব্যাপার, আপনি যে ইস্যুটাকে হাইলাইট করছেন, আরেক জনের কাছে ইস্যুটা এত গুরুত্বপূর্ণ নাও মনে হতে পারে। কারো কাছে মনে হয় এই ইস্যুটা গুরুত্বপূর্ণ, অন্যের কাছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ। ইস্যুর তো অভাব নাই।

নয়া দিগন্ত : কয়দিন আগে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মিডিয়া কনফারেন্স হয়ে গেল।

আকবার হোসেন : ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের একত্রিত করে মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ বিভিন্ন সেশনে অনুসন্ধানী, ডাটা সাংবাদিকতা, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছে। এমআরডিআই এনজিও হিসেবে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, আমাদের দেশে মিডিয়া নিয়ে আলোচনা খুব একটা হয় না। আমাদের সাংবাদিক সংগঠনগুলো এসব ব্যাপারে খুব একটা ইন্টারেস্টেড না, হয়তোবা সংগঠনগুলোর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, ওয়ার্কিং জার্নালিস্টরা নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করা, এগুলোর পেছনে লেগে থাকতে হলে অনেক সময় দিতে হয়, অনেক কিছুর প্রয়োজন আছে, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে করা হয়ে ওঠে না।