উচ্ছেদেই সীমাবদ্ধ রাসিকের অভিযান

রাজশাহী নগরে ফুটপাথ দখলে বিপন্ন পদচারী-অধিকার

Printed Edition

রাজশাহী ব্যুরো

একসময়ের পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও ‘সুখী নগরী’ হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর শান্ত নগরজীবন এখন অপরিকল্পিত দখলদারিত্বের কারণে বিপর্যস্ত। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের অজুহাতে নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, লক্ষ্মীপুর, তালাইমারী ও মেডিক্যাল কলেজসংলগ্ন এলাকার ফুটপাতগুলো এখন হকার, দোকানের মালামাল ও নির্মাণসামগ্রীর দখলে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে ব্যস্ত প্রধান সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্য দিকে, চলমান ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের কারণে সড়ক সঙ্কুচিত হওয়ায় পথচারীদের দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার মহানগরীর ঐতিহ্য (ঘোড়া) চত্বর থেকে বন্ধগেট এলাকা পরিদর্শনে নামেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি ফ্লাইওভারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি ফুটপাত থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান। প্রশাসক বলেন, ‘ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত। জনসাধারণের নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তবে প্রশাসনের এমন উচ্ছেদ অভিযান রাজশাহীতে কেন বারবার ব্যর্থ হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকির অভাব, বিকল্প পুনর্বাসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, জনসচেতনতার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক-সামাজিক চাপের কারণেই উচ্ছেদের কিছুদিন পর ফুটপাত আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে যায়। শহিদুল ইসলাম, তানজিলা খাতুন ও নাসিমা বেগমসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে বাজারে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা স্থায়ী সমাধানের জন্য কঠোর তদারকি ও হকার জোন চালুর দাবি জানান।

এ বিষয়ে ‘হেরিটেজ রাজশাহী’র সভাপতি ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী একটি যুগোপযোগী প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘‘সাহেববাজার ও নিউমার্কেটের ফুটপাত দখল করে থাকা স্ট্রিট ফুড ও অস্থায়ী দোকানগুলোকে যদি পদ্মা নদীকেন্দ্রিক সাত কিলোমিটার দীর্ঘ নদীতীরবর্তী এলাকায় সুসংগঠিত ‘ফুড জোন’ হিসেবে স্থানান্তর করা যায়, তবে নগরীর সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।” তবে এ ক্ষেত্রে বর্জ্যব্যবস্থাপনা ও নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাসিক প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন এ প্রসঙ্গে পুনরুল্লেখ করেন যে, একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে এবং নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তবে এর জন্য সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আন্তরিক দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।