বাগেরহাট প্রতিনিধি ও চিতলমারী সংবাদদাতা
বাগেরহাটে নামধারী ও ভুয়া চিকিৎসকদের অপতৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই অনেকে নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এ বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা: আ স মো: মাহবুবুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাগেরহাটে ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি। এখানে ভালো ডিগ্রিধারী কোনো ডাক্তার আসতে চান না। আপনারা প্রমাণসহ অভিযোগ দিন, আমি কঠোর ব্যবস্থা নেব।
গত রোববার বিকেলে চিতলমারী উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোবাইল ফোনে তিনি এ কথা বলেন। চিতলমারী উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের বেশি ভাগই নিম্নআয়ের। স্বল্প খরচে চিকিৎসার আশায় তারা স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তারদের ওপর নির্ভরশীল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল অসাধু ব্যক্তি তাদের নামের পাশে বাহারি সব ডিগ্রি ব্যবহার করে ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারো ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহারের সুযোগ নেই। কিন্তু এসব ভুয়া ডাক্তার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই তাদের অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই এসব নামসর্বস্ব ডাক্তার যথেচ্ছভাবে রোগীদেরকে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন। এতে রোগীরা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শর্মী রায় বলেন, উপজেলায় কতজন পল্লী চিকিৎসক কাজ করছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজ আমাদের কাছে নেই। এ ছাড়া সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পূর্ণ এখতিয়ার আমাদের হাতেও নেই। তবে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে পারব।
উপজেলাবাসীর দাবি, সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা এসব ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।



