কাতারকে হালকাভাবে নিতে চায় না সুইজারল্যান্ড

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে কাতার ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার এই লড়াই। আগামী ১৩ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার লেভাইস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, এটি হতে পারে নকআউট পর্বে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করার শেষ সুযোগ। কাগজে-কলমে সুইজারল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে চাপ, হিসাব আর বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন গল্প লিখে দেয়।

গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে এসে কাতারের সামনে পরিস্থিতি অনেকটাই ‘করো অথবা মরো’। কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক ফল আনা প্রায় বাধ্যতামূলক। শুধু ড্র নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী জয়ও প্রয়োজন হয়ে উঠতে পারে। অন্য দিকে সুইজারল্যান্ডও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইবে না। শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ইউরোপিয়ান দলটি।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে সুইজারল্যান্ড। ছয় ম্যাচে চার জয় ও দুই ড্রয়ে অপরাজিত থেকে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। পুরো অভিযানে ১৪ গোল করার বিপরীতে মাত্র ২ গোল হজম করে দলটি নিজেদের রক্ষণভাগের শক্তি প্রমাণ করেছে। কোচ মুরাত ইয়াকিনের অধীনে সুইসরা গত কয়েক বছরে নিজেদেরকে ইউরোপের সবচেয়ে সংগঠিত দলগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।

বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের ধারাবাহিক উপস্থিতিও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। সর্বশেষ তিনটি বিশ্বকাপেই তারা গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে উঠেছে। যদিও তারা এখনো শিরোপার প্রধান দাবিদার নয়, তবে বড় টুর্নামেন্টে স্থিতিশীল পারফরম্যান্সের জন্য তাদের আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। শক্তিশালী রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার আক্রমণ এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এ তিনটি বিষয়ই সুইসদের বড় অস্ত্র।

এর আগে ২০১৮ সালে এক প্রীতিম্যাচে দেখায় কাতার১-০ গোলে জয় পেয়েছিল। যদিও কাতারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্বকাপের আগে খেলা শেষ চারটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হেরেছে দলটি। আরব কাপে তিউনিসিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে বড় হার তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেয়। কোচ হুলেন লোপেতেগুইর অধীনে দলটি নতুনভাবে গড়ে ওঠার চেষ্টা করলেও এখনো কাক্সিক্ষত ধারাবাহিকতা পাওয়া যায়নি।

তবে কাতারের জন্য ইতিবাচক দিকও আছে। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়াটাই তাদের জন্য বড় সাফল্য। দলটি ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে চাপের মুহূর্তে তারা লড়াই করতে পারে। এশিয়ান ফুটবলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতারের উন্নতি তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই- বিশ্বমঞ্চে সেই সামর্থ্য কতটা কার্যকরভাবে দেখাতে পারবে তারা?

ম্যাচটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত দ্বৈরথ হতে পারে কাতারের আক্রমণভাগের মূল ভরসা আকরাম আফিফ এবং সুইজারল্যান্ডের রক্ষণনেতা ম্যানুয়েল আকানজির মধ্যে। আফিফ যদি জায়গা ও সময় পেয়ে যান, তাহলে কাতারের আক্রমণ প্রাণ ফিরে পেতে পারে। তবে আকানজি তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সুইজারল্যান্ড ম্যাচের ছন্দ নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে পারবে।

সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগেও রয়েছে একাধিক কার্যকর অস্ত্র। ব্রিল এমবোলো, ড্যান এনদোয়ে ও রুবেন ভার্গাসের গতি ও মুভমেন্ট কাতারের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। বিশেষ করে দুই পাশ দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলার কৌশল কাতারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সম্ভাব্য একাদশে কাতারের হয়ে আক্রমণে দেখা যেতে পারে আলমোয়েজ আলি ও আকরাম আফিফকে। মাঝমাঠে অভিজ্ঞ করিম বুদিয়াফ ও আবদুল আজিজ হাতেমের ওপর ভরসা থাকবে। অন্য দিকে সুইজারল্যান্ডের নেতৃত্বে থাকবেন গ্রানিত জাকা, রক্ষণে আকানজি এবং গোলপোস্টে গ্রেগর কোবেল।

সব দিক বিবেচনায় সুইজারল্যান্ডই ম্যাচের ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামছে। সাম্প্রতিক ফর্ম, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠিত রক্ষণ ও বড় ম্যাচে ধারাবাহিকতার কারণে তাদের এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপে ইতিহাস বলছে চাপের ম্যাচে চমক প্রায়ই দেখা যায়। কাতার যদি শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে পারে এবং নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে ম্যাচটি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।

নকআউটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে দুই দলেরই লক্ষ্য এক ভুলের সুযোগ নেই। আর সেই কারণেই কাতার-সুইজারল্যান্ড ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হয়ে উঠতে যাচ্ছে।