ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে পুশইনের অভিযোগে শূন্যরেখায় অবস্থান করা নারী, শিশুসহ ১১ জনকে প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রোববার রাত ৩টার দিকে তাদের সরিয়ে নেয়া হয় বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সরিয়ে নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন শিশু, চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। নারীদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশের অনুপ্রবেশে বাধা দেয়। এরপর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।
এদিকে অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থান এবং পাহারায় অংশ নেন।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
নওগাঁর পোরশা সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি ও স্থানীয় জনতা
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর পোরশা সীমান্ত দিয়ে ভারতের কয়েকজন নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধীন উপজেলার নিতপুর চৌকি-সংলগ্ন (বিওপি) এলাকায় বিএসএফের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়। বিএসএফের সদস্যরা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালান।
সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ায় বিজিবি। এ ছাড়া আনসার সদস্যরাও ওই এলাকায় অবস্থান নেন। একইসাথে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠি ও লাইট হাতে নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেন। বিজিবি, আনসার ও এলাকাবাসীর অনড় অবস্থানের মুখে বিএসএফ অনেক চেষ্টার পর পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বিজিবির নীতপুর বিওপির নায়েব সুবেদার আমির হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে ১৫-২০ জন ভারতীয় নাগরিক নিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। আমরা বিজিবিসহ স্থানীয় জনসাধারণ শক্ত অবস্থানে থাকায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে সীমান্তে অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে বিএসএফের সদস্যরা কিছু লোককে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি, আনসার ও স্থানীয় জনতার শক্ত অবস্থানের কারণে তারা ব্যর্থ হয়। অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকেই অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হবে না।



