এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
যশোরের চৌগাছায় চলতি আমন মৌসুমে ১৭ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও রোপণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ধান চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এবার বিআর-৫১, বিআর-৮৭, বিআর-৭৫, প্রতীক, লাল স্বর্ণ, কাশ্মিরী স্বর্ণ, ইন্ডিয়ান মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধানের আবাদ হবে।
উপজেলার আন্দারকোটা গ্রামের আশাদুল ইসলাম, সিংহঝুলি গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও সাবের আলী সরদার, স্বরূপদাহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সাগর খান, সামছুল হুদা দফাদার, ইছাহাক আলী দফাদার এবং মিজানুর রহমান কাটু বিশ্বাসসহ একাধিক কৃষক জানান, মাঠে এখন আমন ধান রোপণের ব্যস্ত সময় চলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মাওলানা সুলাইমান হোসেন বলেন, জমি প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চারা রোপণ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় সব কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ধান চাষ করেও কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই চাষাবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন।
রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, আগে নিজের সব জমিতেই ধান চাষ করতাম; কিন্তু লোকসানের কারণে এবার মাত্র এক বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছি। গরীবপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন মুজাম বলেন, তিনি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেন। এবারো ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমনের চাষ করবেন; কিন্তু উৎপাদন ব্যয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, উপজেলার প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে।



