ঝুলে আছে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ৩ উপজেলা

Printed Edition
ছোট ফেনী নদীর তীর ভাঙনের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত
ছোট ফেনী নদীর তীর ভাঙনের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

সাইফুল আলম হিরন সোনাগাজী (ফেনী)

ছোট ফেনী নদীতে নদীভাঙন রোধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুল আলোচিত মুছাপুর ২৩-ভেন্ট রেগুলেটর পুনঃনির্মাণ প্রকল্প দুই বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ফেনীর সোনাগাজী, দাগনভূঁঞা এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত ভাঙনে ভিটেমাটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও কৃষিজমি হারিয়ে এ অঞ্চলের তীরবর্তী বাসিন্দাদের জীবনে নেমে এসেছে তীব্র বিভীষিকা।

জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান। তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন করিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেন। সাময়িক তীব্রতা কমাতে ফেলা হয় জিও ব্যাগ; কিন্তু গত ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপিত না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন জানা যায়, ছোট ফেনী নদী অববাহিকা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে। ২০০৫ সালে সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩-ভেন্টের মুছাপুর রেগুলেটরটি স্থাপন করা হয়। এটি দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে সাগরের লোনা পানি প্রবেশ রোধ ও পানি নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ করা হতো। তবে ২০২৪ সালে ভারতের পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত পানির চাপে রেগুলেটরটি ভেঙে নদীতে ভেসে যায়।

এরপর থেকেই সোনাগাজীর চর দরবেশ, চর চান্দিয়া ও চর মজলিশপুর এবং কোম্পানীগঞ্জ ও দাগনভূঁঞা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙন। হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি, বাড়িঘর ও উপাসনালয় নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভাঙন রোধে সাময়িকভাবে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না, বরং ভাঙনের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নদীপাড়ে স্বজন ও ভিটেমাটি হারা মানুষের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে।

চর দরবেশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছোট নদীটি এখন তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ গিলে খাচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, তত আমাদের অঞ্চলের মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। চর মজলিশপুর এলাকার জেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ রবিউল হক শিমুল বলেন, দ্রুত রেগুলেটর নির্মাণ না করা হলে এ অঞ্চলের পুরো মানচিত্রই বদলে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কিছু কাজ চলমান রয়েছে। তবে রেগুলেটর পুনঃনির্মাণের মূল প্রকল্পটি নোয়াখালী ডিভিশন তৈরি করায় তারা বিস্তারিত ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর পুনঃনির্মাণের জন্য সরকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে তিন উপজেলার মানুষ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।