স্বৈরাচার আমলের গুম নিয়ে ‘মায়ের ডাক’-এর প্রদর্শনী

Printed Edition

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

স্বৈরাচারের নারকীয় দুঃশাসনামলে বাকস্বাধীনতা ছিল অবরুদ্ধ। ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন ও অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গুমের শিকার হয়েছেন অগণিত মুক্তিকামী মানুষ। হাসিনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রতিবাদকারী সেসব মানুষকে এখনো খুঁজে পায়নি পরিবার ও স্বজনরা।

তাদের কাউকে তুলে নিয়ে রাখা হতো ‘আয়নাঘরে’। কেউ সেখান থেকে ফিরে এসেছেন, কেউ আর কখনো ফেরেননি। এখনো গুমের শিকার স্বজনদের হাহাকারে ভারী হয়ে আছে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই মানচিত্র। এখনো প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ছবি নিয়ে ঘুরছে স্বজনরা। দেশ স্বৈরাচারের নারকীয় দুঃশাসন থেকে মুক্ত হলেও স্বস্তি মেলেনি গুমের শিকার হওয়াদের স্বজনদের। আজও প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের নানা মুহূর্তের পাশাপাশি তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা, বেদনা ও অনিশ্চয়তার চিত্র ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে ধরেছেন আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ ও মোশফিকুর রাহমান জোহান।

আর তাদের সেসব আলোকচিত্র নিয়ে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে শুরু হয়েছে যতদিন না তারা ফিরছে শীর্ষক আট দিনের বিশেষ প্রদর্শনী।

এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’।

গতকাল এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় গুমের শিকার হওয়া নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তাদের নিয়ে ‘অপসংস্কৃতি’ চর্চা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আমি ও হুম্মাম কাদের বেঁচে আছি। আমরা জানতাম না শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকব কি না। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বেঁচে থাকা নিয়েও হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।

মায়ের ডাকের অন্যতম সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত আসনের এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি জানান, গুমের শিকার আটটি পরিবারের সদস্যরা ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘মায়ের ডাক’ গড়ে তোলেন। বর্তমানে প্রায় এক হাজার পরিবার এ প্ল্যাটফর্মের সদস্য। এসব পরিবারের কারো না কারো স্বজন গুমের শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনার শাসনামল থেকেই গুমের প্রতিবাদ এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানের দাবিতে তারা সোচ্চার ছিলেন।

প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ৫ সেপ্টেম্বর শেষ হবে আট দিনের এই প্রদর্শনী।