মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
গত ১৬ জুলাই নয়া দিগন্তে ‘মতলব উত্তরে এতিমের ২৫ টন চাল আত্মসাৎ’ শিরোনামে নিউজ প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। গত ১৬ ও ১৭ জুলাই দায় স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে উপজেলার ৪৬টি এতিমখানার ১০-১২ হাজার করে টাকা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
এতিমখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের এক টন চালের বিপরীতে কোনো প্রতিষ্ঠান ৫০০ কেজি, আবার কোনোটি ৬০০ কেজি চাল পেয়েছিল। বাকি অংশের পরিবর্তে আগে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা দেয়া হলেও সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত মনির হোসেন বিভিন্ন এতিমখানায় গিয়ে দায় স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে টাকা ফেরত দেন। এ ঘটনায় তারা সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এতিমদের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
উপজেলার সাড়ে পাঁচানী হোসাইনীয়া এতিমখানার সভাপতি নুরুল আমীন মাস্টার বলেন, বিভিন্নভাবে অনুরোধ করেও আগে কোনো প্রতিকার পাননি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত অতিরিক্ত টাকা ফেরৎ দেয়া হয়েছে।
কলাকান্দা ইউনিয়নের সাতানী নেদায়ে ইসলাম আশেকী মানঞ্জুর হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা বাহাউদ্দিন জানান, এক টন চালের পরিবর্তে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। পরে আরো ১৫ হাজার টাকা তিনি পেয়েছেন, যা এতিমদের কাজে ব্যয় করা হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মনির হোসেন টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এ দিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বলেন, চাল আত্মসাৎ, টাকা ফেরত দেয়া কিংবা প্রকল্পসংক্রান্ত নথি বাইরে থাকার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চাল বিতরণ কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



