আব্দুর রাজ্জাক ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, হরিরামপুর, শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও গাছপালা। ভাঙনের মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুরাতন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এতে নদীতীরবর্তী হাজারো পরিবার চরম উদ্বেগ-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতপুর উপজেলার চরপারুরিয়া-কালিয়াপুর এলাকার শুকুরিয়া দাখিল মাদরাসা, ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় এবং বাঘুটিয়া পুরাতন বাজার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের বহু বসতবাড়ি নদতে বিলীন হতে পারে।
হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়নের ১৩টি মৌজার মধ্যে ১২টিই এরই মধ্যে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষায় নতুন করে একাধিক বসতভিটা নদীতে গেছে। এছাড়া লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, হরিরাঘাট উত্তর পাটগ্রাম এবং কাঞ্চনপুরের কুশিয়ারচর এলাকায়ও ভাঙন তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে, যমুনার শাখা নদী ও কালীগঙ্গার ভাঙনে ঘিওর উপজেলার আশাপুর, সড়কঘাটা, কুস্তা, চর কুশুণ্ডা ও নকীববাড়ি এলাকায় অন্তত পাঁচ বিঘা ফসলি জমি এবং কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নকীববাড়ি গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে নদীভাঙনও বেড়েছে। এরই মধ্যে তার এক বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বাঘুটিয়া এলাকার বাসিন্দা আজিজ প্রামাণিক ও সালেহীন মোমিন জানান, প্রতিদিনই নদীর পাড় ধসে পড়ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক গাজী বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ মৌজা এরই মধ্যে নদীতে চলে গেছে। এ বছরও ১২ থেকে ১৩টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে। স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।
নদীভাঙন ঠেকাতে শিবালয় ও ঘিওরের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আক্তারুজ্জামান জানান, শিবালয়ের পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটসংলগ্ন বরুরিয়া এলাকায় ৩৫০ মিটার, স্যোশাল প্যান্ড এলাকায় ৩০০ মিটার এবং ঘিওরের কুস্তা এলাকায় ১২০ মিটারজুড়ে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী নদীশাসনের অভাবে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাদের দাবি, দ্রুত টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও বসতভিটা রক্ষা করা হোক।



