বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর উচ্চমাত্রার নির্ভরতা অর্থনীতি, পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করেছে। দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র সচিব সভায় উঠছে আজ মঙ্গলবার। বিকেল সাড়ে ৪টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রায় সাত মাসের মাথায় প্রথম সচিব সভা হচ্ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়।
সরকার দায়িত্ব নেয়ার ২১০ দিন পর প্রথমবারের মতো সচিবদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সচিব সভার আলোচ্যসূচিতে সরকারের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয়, সরকারের কার্যক্রম আরো গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয়ে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় বিশেষভাবে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-৩০) নিয়ে আলোচনা হবে। এর বাইরে বিবিধ বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
সচিব সভা সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় এরই মধ্যে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
সচিব সভা সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা। এতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট, এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুৎতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের অধিক। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট (অনগ্রিড ও অফগ্রিড) উৎপাদন সক্ষমতা বিদ্যমান থাকলেও মোট উৎপাদনে এর অংশ এখনো সীমিত। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এবং বিদ্যুতের চাহিদা বছরে গড়ে ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলে ২০৩০ সালে দেশের চাহিদা প্রায় ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎকে আরো কঠিন করে তুলেছে।
বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সাথে পর্যায়ক্রমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে একটি সবুজ ও টেকসই জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে এবং নীতি, প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে একটি কার্যকর জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।



