আলকামা সিকদার মধুপুর (টাঙ্গাইল)
শালবন আর লাল মাটির জন্য পরিচিত টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চল। এ অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হলো আনারস। অনুকূল আবহাওয়া, উঁচু জমি এবং বিশেষ ধরনের মাটির কারণে এখানে বাণিজ্যিকভাবে আনারসের ব্যাপক চাষ হয়। সম্প্রতি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া মধুপুরের আনারস দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন আনারস চাষ ও বিক্রি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধুপুর গড়ে ছয় হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪ হেক্টরে জলডুগি এবং ছয় হাজার ১২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার জাতের আনারসের আবাদ হয়েছে। পরীামূলকভাবে ‘এমডি-টু’ জাতের আনারসও চাষ করা হয়েছে। এ বছর উপজেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আনারস বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কৃষকদের অভিযোগÑ সংরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার অভাবে মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আনারস কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সময়মতো বিক্রি না হলে অনেক আনারস নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে আনারস থেকে জুস, জেলি, জ্যামসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রফতকানি করা সম্ভব হতো। শালিকা গ্রামের আনারসচাষি জাহিদ হোসেন বলেন, মধুপুরে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হলে আনারস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত না। কৃষকরা ন্যায্য দাম পেতেন এবং নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হতো।
স্থানীয়দের অনেকেই জানান, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের গারো নারী ভেরেনা সাংমা ভারত থেকে ‘জায়ান্ট কিউ’ জাতের কয়েকটি আনারসের চারা এনে মধুপুর গড়ে চাষ শুরু করেন। তার হাত ধরেই মধুপুর গড়াঞ্চলে আনারস চাষের বিস্তার ঘটে।
কৃষক আরশেদ আলী বলেন, সরকারি উদ্যোগে আনারসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে কৃষকরা বাজারের সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে মুক্তি পেতেন এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্যও নিশ্চিত হতো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, মধুপুরের আনারসের বাজার সম্প্রসারণ ও মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, এখানে অনেক আগেই একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হওয়া উচিত ছিল। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।



