ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। গতকাল রোববার বেলা ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির আয়োজনে নেপাল ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওসহ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী। ভৌগোলিকভাবে নেপাল আমাদের খুব দূরে নয়। সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক দরিদ্র মানুষ অর্থাভাবে চোখের সুচিকিৎসা নিতে পারেন না। এই চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ উপকৃত হবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক স্বাস্থ্যসেবা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারিত হবে বলে আমি আশা করি।
‘সবার জন্য দৃষ্টি, প্রতিটি চোখের যতœ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত চক্ষু শিবিরে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় সেবা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনজেএসের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা: চেত রাজ পান্ত এবং বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা: আবু মো: খায়রুল কবির।
আয়োজকরা জানান, চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চোখের বিভিন্ন রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা অনেক জটিল রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ চিকিৎসক, সমাজসেবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
একই দিন দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাশের দেশ ভারতের গণতন্ত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পাশের দেশ ভারতের দিকেই তাকিয়ে দেখেন, তাদের অনেক সমস্যা, তাদের সমস্যার শেষ নেই। তারপরও তাদের গণতন্ত্র টিকে গেছে। তাদের গণতন্ত্র টিকে গেছে কারণ, তাদের গণতন্ত্র প্রশাসন, বিচার বিভাগ, মিডিয়াসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল সে প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী।
তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে একটি কথা বলতে চাই যে, বাংলাদেশের ব্যাপারটা এত সহজ নয়। এখানে ২০ কোটি জনগণের বসবাস। আমরা মাত্র ৫৪ হাজার বর্গমাইলের একটি এলাকায় বসবাস করি। এখানে দারিদ্র্যতা একটি বড় সমস্যা। ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তেমন কোনো উন্নত কল কারখানা নেই। আমরা এসব অঞ্চলে কৃষি-বেইজ কলকারখানা স্থাপন করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র যদি চলে, গণতন্ত্র প্র্যাকটিস হয়, তাহলে আর বাদবাকি সব সমস্যার সমাধান হবে। আমরা যদি ন্যায়বিচারের জন্য প্রভাবমুক্ত একটি জুডিশিয়ারি তৈরি করতে পারি তাহলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। আমরা আমাদের প্রশাসনকে যদি যোগ্য প্রশাসন হিসেবে গড়ে তুলতে পারি তাহলে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। সমস্যা আছে অনেক, সমস্যা থাকবেই, বিরোধিতা থাকবেই। এর মাঝেও যদি আমরা আমাদের দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে তুলতে পারি তাহলে সব সমস্যার সমাধান হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



