মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন ফ্রান্স থেকে
ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নতুন এক জনমত জরিপে ডানপন্থী দল রাসেম্বলমঁ নাসিওনালের (আরএন) দুই নেতা জর্দান বারদেলা ও মারিন ল্য পেন অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। অন্য দিকে বামপন্থী শিবির এখনো সমান শক্তিশালী কোনো প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেরিয়ানের পরিচালিত এবং ল্য ফিগারো ম্যাগাজিনে প্রকাশিত জরিপে প্রেসিডেন্ট সুলভ নেতৃত্ব মূল্যায়নে চারটি সূচক বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এগুলো হলো- একজন ভালো প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা, ফ্রান্স ও ফরাসি জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করার সক্ষমতা, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা।
জরিপ অনুযায়ী, মারিন ল্য পেনকে ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা একজন যোগ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। একই হারে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপরও আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতার ক্ষেত্রেও তিনি ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।
অন্য দিকে আরএনের সভাপতি জর্ডান বারদেলা ফ্রান্স ও ফরাসি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, যা জরিপের সব সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দক্ষতার প্রশ্নে তার সমর্থন ৪১ শতাংশ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ৪৪ শতাংশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতায় ৪১ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই নেতার জনপ্রিয়তার ভিত্তি ভিন্ন। মারিন ল্য পেনকে অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখা হলেও জর্দান বারদেলা নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। ফলে ডানপন্থী রাজনীতিতে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
জরিপে আরো দেখা যায়, গত মাসের তুলনায় মারিন ল্য পেনের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ্যতার সূচকে তার সমর্থন তিন শতাংশ পয়েন্ট এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতায় এক শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। অন্য দিকে জর্দান বারদেলা প্রতিনিধিত্বের সূচকে এক শতাংশ পয়েন্ট এগোলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সূচকে দুই শতাংশ পয়েন্ট কম সমর্থন পেয়েছেন।
শ্রমজীবী ভোটারদের মধ্যে বারদেলার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। এ শ্রেণীর ৫৯ শতাংশ তাকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য মনে করেন। ৬৩ শতাংশ বিশ্বাস করেন তিনি ফ্রান্সকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন এবং ৬০ শতাংশ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। একই শ্রেণীর ভোটারদের মধ্যে মারিন ল্য পেনের সমর্থন ৫৪ থেকে ৫৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তবে প্যারিস ও আশপাশের নগরাঞ্চলে দুই নেতার জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কম।
ডানপন্থী এই দুই নেতার পরেই রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ। প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে তিনি ৩৫ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ৩১ শতাংশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতায় ৩২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। জুন মাসের তুলনায় চারটি সূচকেই তার অবস্থানের সামান্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী ভোটারদের পাশাপাশি বামপন্থী ভোটারদের একটি অংশও তাকে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে ভোট দেয়া ভোটারদের ৭১ শতাংশও মনে করেন, ফিলিপ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে সক্ষম।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল ও রিপাবলিকান দলের নেতা ব্রুনো রেতাইয়ো বিভিন্ন সূচকে ২৩ থেকে ২৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। তবে আতালের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে, আর রেতাইয়োর অবস্থান মূলত নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যেই শক্তিশালী।
বামপন্থী শিবিরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের অবস্থানের উন্নতি হলেও সামগ্রিক সমর্থন ২২ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক নেতা রাফায়েল গ্লুকসমানও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেননি। অন্য দিকে বামপন্থী নেতা জ্যাঁ-লুক মেলঁশঁ মাত্র ১৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে জরিপের সর্বনি¤œ অবস্থানে রয়েছেন।
‘ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা’ সূচকেও মারিন ল্য পেন ও জর্দান বারদেলা যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা আগামী বছরগুলোতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকায় দেখতে চান। এদুয়ার ফিলিপ ৩১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয়, গ্যাব্রিয়েল আতাল ২৭ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ এবং ব্রুনো রেতাইয়ো ২৫ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন।
গত ৮ থেকে ১০ জুলাই অনলাইনে পরিচালিত এ জরিপে কোটা পদ্ধতিতে নির্বাচিত ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী এক হাজার ফরাসি নাগরিক অংশ নেন। জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত করছে, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরাসি রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে রাসেম্বলমঁ নাসিওনাল। বিশেষ করে জর্দান বারদেলা ও মারিন ল্য পেনকে ঘিরেই আগামী নির্বাচনের প্রধান রাজনৈতিক লড়াই আবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।



