ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে
কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল। দুই গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। খেলা ৭৯ মিনিট শেষ করেছে। লিওনেল মেসি বাহিনীর শিরোপা জয় প্রায় নিশ্চিত। তখনই একটি পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। এই স্পট কিকে গোল হলে ম্যাচে সমতা আনার দারুণ একটি উপলক্ষ হবে। পোস্টের নিচে পেনাল্টি ও টাইব্রেকার ঠেকানোয় সিদ্ধহস্ত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। অন্য দিকে ফ্রান্সকে গোল পেতেই হবে। শট নিতে এলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ডান পায়ের প্রচণ্ড গতির শট নিলেন তিনি। এই ফরাসি স্ট্রাইকার যে ডান দিকে শট নেবেন তা আগেই বুঝে গিয়েছিলেন মার্টিনেজ। তিনিও ডান দিকে শরীর ফেলে দিলেন পূর্ণ গতিতে। কিন্তু বলের গতি এতটাই বেশি ছিল যে মার্টিনেজের হাতের বাধা কিছুই করতে পারল না। বল আর্জেন্টিনার কিপারের হাতের ছোঁয়া নিয়ে জাল স্পর্শ করে। এরপর নিজে আরেকটি ফিল্ড গোল করেন ৮১ মিনিটে। ফলে ২-২-এ ৯০ মিনিটের খেলা শেষ।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ১০৮ মিনিট। লিওনেল মেসির গোলে এবার ৩-২ এ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। এরপর ১১৮ মিনিটে পেনাল্টি পেল ফ্রান্স। এবারো শট নিতে এলেন এমবাপ্পে। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ মনে করেছিলেন এবার বোধ হয় শটটি মারা হবে বাম দিক দিয়ে। তাই এমবাপ্পে শট নেয়ার সময় বাম দিয়ে শরীর ফেলেন মার্টিনেজ। তবে এমবাপ্পে শট নিলেন সেই ডান দিকেই। ফলে স্কোর ৩-৩। খেলা গড়াল টাইব্রেকারে। সেখানে মেসি গোল করার পর ফ্রান্সের পক্ষে প্রথম শট নিতে আসেন এমবাপ্পে। এবার মার্টিনেজ ডান দিকেই ডাইভ মারলেন। কিন্তু ফরাসি স্ট্রাইকারটির শট মার্টিনেজের আঙুলের ছোয়া নিয়ে জালে যায়। অর্থাৎ ১২০ মিনিট ও টাইব্রেকার মিলে তিনটি পেনাল্টি শট নেন এমবাপ্পে। তিনটি শটেই গোল।
অথচ এবার সেই এমবাপ্পেই মিস করলেন পেনাল্টি। শটটি ডান দিকে নেননি। নিয়েছেন বাম দিকে। তা আলতো শট। রিয়াল মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকারের এই দুর্বল শট রুখে দিতে কোনো সমস্যাই হয়নি মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর। এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে তিনি চলে এলেন অন্য তারকা ফুটবলারের কাতারে। যারা পেনাল্টি ও টাইব্রেকার মিস করেছেন বিশ্বকাপে। আর এবারের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার যে লড়াই চলছে মেসির সাথে এই পেনাল্টি মিসে তার কাছেও চলে এলেন এমবাপ্পে। যদিও মেসি এবার দুই পেনাল্টি এবং টানা তিন বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস করা ফুটবলার। অবশ্য মেসির মতোই এমবাপ্পে পেনাল্টি মিস করেও পরে গোল দিয়েছেন। মেসি দুই ম্যাচে অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে ওই দুই ম্যাচেই পরে গোল করেছেন। আর এমবাপ্পে মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হলেও পরে গোল দিয়ে লিড এনে দেন ফ্রান্সকে।
ক্যারিয়ারে এই পর্যন্ত টাইব্রেকার ছাড়া ৬৫টি গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে। আর মিস করেছেন ১৪টি। আর জাতীয় দলের জার্সিতে ১৭টি পেনাল্টি শট নিয়ে একটি শটেই গোল করতে ব্যর্থ। আর তা মরক্কোর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। অথচ এই বিশ্বকাপেই তিনি পেনাল্টিতে গোল করেছিলেন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সেরা ১৬-এর ম্যাচে।
মরক্কোর বিপক্ষে এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে তিনি এই প্রথম বিশ্বকাপে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন। এর আগের তিন পেনাল্টিতেই গোল করেছিলেন ২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দু’টি এবং এবার প্যারাগুয়ের বিপক্ষে।
এমবাপ্পে হলেন দ্বিতীয় ফরাসি ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডে বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করতে পারেননি করিম বেনজেমা। যদিও গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ফ্রান্স ৫-২ গোলে জিতেছিল।
বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় তারকাদের মধ্যে আগে পেনাল্টিতে গোল মিস করেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, জিকো, সক্রেটিস, রবার্তো ব্যাজিও, মিশেল প্লাতিনি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি। এবার সেই কাতারে যোগ দিলেন এমবাপ্পেও।



