একটি সুন্দর মসজিদের কথা বলছি; ‘এরতুগরুল গাজি মসজিদ’। ১৯৯৮ সালে মসজিদটি চালু করা হয়। এর অবস্থান বৃহত্তর তুর্কি জাতির ছয়টি স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে (আশখাবাদ)।
মর্মরপ্রস্তরে নির্মিত এ মসজিদে রয়েছে চারটি মিনার এবং একটি কেন্দ্রীয় গম্বুজ। সাদা মর্মরপ্রস্তরের এ স্থাপনাটি স্মরণ করিয়ে দেয় তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত নীল মসজিদের কথা। মসজিদের অভ্যন্তরীণ অলঙ্করণ অসাধারণ। স্বচ্ছ রঙমিশ্রিত কাচের জানালাগুলো দৃষ্টি কাড়ে।
এরতুগরুল গাজি মসজিদে প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন। বর্তমানে এটি আশগাবাতের একটি বিখ্যাত স্থাপনা, যা দূর থেকে দেখা যায় এবং এটি দিয়ে ওই স্থানকে চেনা যায়।
ওসমানীয় সাম্রাজ্যের (তুরস্ক) প্রতিষ্ঠাতা প্রথম ওসমানের বাবা এরতুগরুলের সম্মানে মসজিদটির নামকরণ করা হয় ‘এরতুগরুল গাজি মসজিদ’।
এরতুগরুল ছিলেন ওঘুজ তুর্কিদের কায়ি গোত্রের নেতা। তার উপাধি ছিল গাজি। ১১৯১ (মতান্তরে ১১৯৮) সালে তিনি আহলাতে জন্মগ্রহণ করেন। আহলাতের অবস্থান আনাতোলিয়া বা এশিয়া মাইনরের পূর্বাংশে। এই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা তুর্কমেনিস্তান থেকে ৪০০ অশ্বারোহী সেনা নিয়ে আনাতোলিয়ায় আসেন এবং সেই সময়কার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ‘রুমের সেলজুক তুর্কিদের’ সহায়তা করেন। সাহসী যোদ্ধা হিসেবে ইতিহাসে রয়েছে তার বিশিষ্ট স্থান।
১২৮১ সালে সুগুতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সুগুতের অবস্থান বর্তমান তুরস্কের পশ্চিম এশিয়া মাইনর বা আনাতোলিয়ায়।



