নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের টিম পরিদর্শন ও মতবিনিময় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। টিমের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
গতকাল দিনব্যাপী পরিদর্শনের শুরুতে পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩ নম্বর গলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
পরে প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা আনন্দবাজার খাল, পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ সংলগ্ন গলি, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি স্থানীয়দের সাথে আলাদাভাবে কথা বলেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয়রা এ সময় পানির সঙ্কট, গ্যাস সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, অবৈধ দখল, ট্রাফিক জট, মাদক ও কিশোর গ্যাং সমস্যা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি সংক্রান্ত নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
মতবিনিময়কালে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আমার কথা শুনেছেন এবং রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো দল বা আসনের নন ববং তিনি সারা দেশের তথা ৩০০ আসনের প্রধানমন্ত্রী। তাই আমি আমার আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব তার হাতেই অর্পন করেছি। তিনি সংসদের অভিভাবক হিসেবে তা গ্রহণ করেছেন এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ীই আমরা ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। আমরা সম্ভব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব-ইনশা আল্লাহ। তিনি সরকারের উন্নয়ন কাজে স্থানীয় জনগণকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ঢাকা-১৫ আসন নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। মাত্রাতিরিক্ত খানা-খন্দক, ভঙ্গুর রাস্তা ও রাস্তার মাঝখানে লাইট পোস্ট থাকার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। সর্বোপরি এ আসনে পানির সমস্যা প্রকট। জলবদ্ধতা, পানিতে দুর্গন্ধ, গ্যাসের সমস্যা, কিশোর গ্যাং ও রাস্তায় রাস্তায় জটলা এখানকার উল্লেখযোগ্য সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ডিএনসিসির প্রশাসকসহ আমরা সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করছি। তিনি এ মহতি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি টিম লিডার হিসেবে আজ এই এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে স্থায়ী সমাধান করা হবে। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ওয়াসা, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সাথে তিনি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশ্বাস দেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, প্রতিমন্ত্রী ও ডিএনসিসি প্রশাসক পশ্চিম শেওড়াপাড়া ও মনিপুরী পাড়ার পানির সমস্যার সমাধানে পাঁচটি পানির পাম্প নির্মাণের জন্য এলাকার জনগণকে দ্রুত স্থান নির্বাচনের জন্য সহযোগিতার আহ্বান জানান। এ সময় তারা প্রত্যেকে নিজস্ব তহবিল হতে প্রতিটি পানির পাম্পের জন্য ২০ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন এবং জনগণকে এ বিষয়ে সহযোগিতার অনুরোধ জানান।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের এ ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং ঢাকা-১৫ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে সহায়ক হবে।
পরিদর্শন ও কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রি. জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পিএসসি, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক, মিরপুর ও কাফরুল থানা জামায়াতের আমির, বিএনপির মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



