খুলনা ব্যুরো
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের শুধু সামনের ঘটনার দিকে তাকালে চলবে না, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে দূরদৃষ্টি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিপদ সঙ্কেত বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া এবং একটি পথ বন্ধ হলে বিকল্প পথ খুঁজে বের করার যোগ্যতা নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ। গতকাল নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা অঞ্চল জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বাছাইকৃত রুকন প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত শিক্ষাশিবিরে (পুরুষ-মহিলা) প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে ও টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপির পরিচালনায় এই শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ ও মাওলানা মো: শাহজাহান। উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান এমপি, হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি, মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ মো: শহীদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমির মাওলানা রেজাউল করিম প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষের দায়িত্ব হলো নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য বস্তুগত শক্তির ওপর নির্ভর না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। মানুষকে আমরা মামলার জন্য উকিল বানাই, আর আমার ইচ্ছা পূরণ, দুনিয়ার সব প্রয়োজন পূরণের জন্য আমি আল্লাহকে উকিল বানাব। এটার নাম তাওয়াক্কুল।
জাগতিক, বৈষয়িক, লজিস্টিক ও কারিগরি প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। তবে এসব প্রস্তুতিকে সফলতার একমাত্র ভিত্তি মনে করা যাবে না। আমার বস্তুগত সব প্রস্তুতি থাকতে পারে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যদি আমার ওপর রাজি না হন, কুদরতের মালিক যদি রাজি না হন, আমার হাজারো কোটি টাকা, হাজারো জনবল সব ব্যর্থ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, তাওয়াক্কুলের তিনটি লক্ষণ। নিজের তদবির ও বস্তুগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করা। নিজের সাধ্য-যোগ্যতার পরিবর্তে পরীক্ষার সময় আল্লাহর সাহায্যের ওপর আস্থা রাখা। একা হলেও আন্দোলনে টিকে থাকার জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। কে আছে আর কে নেই, কোন বড় লোক চলে গেল, কোন আমির গেল, রুকন গেল, কোন এমপি গেল, কী করল, কিচ্ছু আসে যায় না।
আমি আমার আল্লাহর ওপর চলতে থাকব। সংগঠনের বায়াতের মাধ্যমে একজন কর্মী এমনভাবে নিজেকে গড়ে তুলবেন, যাতে সংগঠন তার ওপর আস্থা রাখতে পারে। ঝড় আসবে, প্রতিবাদ আসবে, মিছিল আসবে, মৃত্যু আসবে, জুলুম আসবে, ঝড় আসলে সবাই পালিয়ে যায়, পড়ে যায়, আমি খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে থাকব। সংগঠনের দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে সংশোধন, আত্মসমালোচনা ও জবাবদিহির মধ্য দিয়ে কর্মীদের এই দৃঢ়তা তৈরি করতে হবে।
শুকর বা কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে এ প্রসঙ্গে তিনি কুরআনের আয়াত ‘লাইন শাকারতুম লা-আজিদান্নাকুম’ উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি আরো বাড়িয়ে দেন। এসব গুণ অর্জনের মধ্য দিয়ে মুমিন হতে হবে।



