চড় মেরে শাস্তির ঝুঁকিতে বেলিংহ্যাম

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের ২-১ গোলের নাটকীয় হারের পর মাঠে ঘটে যায় আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার বদলি খেলোয়াড় ভ্যালেন্তিন বারকোর মাথার পেছনে চড় মারেন। এ ঘটনায় ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন এই ইংলিশ তারকা। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা বিজয় উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন। খেলায় অংশ না নেয়া বারকোও মাঠে নেমে সতীর্থদের সাথে উদযাপনে যোগ দেন। এ সময় বেলিংহ্যাম তার কাছে গিয়ে মাথার পেছনে চড় মারলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে বেলিংহ্যাম সেখান থেকে সরে যান। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার সমতাসূচক গোলের পর বারকো মাঠে ছুটে এসে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সামনে উদথযাপন করেছিলেন। বিবিসি রেডিওর ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক পল রবিনসন ওই আচরণকে চলতি বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে খারাপ ক্রীড়াসুলভ আচরণের একটি’ বলে মন্তব্য করেন।

ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি ঘটনাটি পর্যালোচনা করতে পারে। যদি বেলিংহ্যামের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে শনিবার ফ্রান্সের বিপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তাকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। তবে ফুটবলের আইন অনুযায়ী, মাথায় আঘাতের মাত্রা খুবই সামান্য হলে সেটিকে লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। তাই ফিফা ঘটনাটিকে সহিংসতার পরিবর্তে আবেগপ্রসূত আচরণ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। উল্লেখ্য, আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ দিকে এনসো ফার্নান্দেস ও লাউতারো মার্টিনেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতেও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির সাথে বেলিংহ্যামের কথাকাটাকাটি হয়েছিল। পরে ইংলিশ মিডফিল্ডার জানান, সেটি ছিল একটি ফাউল নিয়ে সাধারণ আলোচনা, এর বেশি কিছু নয়।

মেসির সাথে কি হয়েছিল বেলিংহামের

বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের লড়াইয়ে উত্তেজনার মুহূর্তের অভাব ছিল না। তবে এর মধ্যেও আরো একটি ঘটনা সবারই নজর কাড়ে আলাদা করে। জুড বেলিংহাম যখন মুখোমুখি হয়েছিলেন লিওনেল মেসির। দুই দলের দুই প্রজন্মের দুই তারকাকে দেখা যায় মুখোমুখি হয়ে বেশ উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলতে। ম্যাচের পর বেলিংহাম অবশ্য দাবি করলেন, খুব গুরুতর কোনো কিছু ছিল না সেটি।

আটালান্টায় গত পরশু ম্যাচের প্রথমার্ধের ঘটনা। মেসির দিকে এগিয়ে কিছু বলদে দেখা যায় বেলিংহামকে। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে মুখোমুখি হন মেসিও। দু’জনের শরীরী ভাষাতেই ফুটে উঠছিল, কোনো সৌহার্দ্য বিনিময় হচ্ছে না সেখানে। ওই ঘটনার ভিডিও কিপ ও ছবি ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। এতে বেশ ােভের প্রকাশও দেখা যায় আর্জেন্টিনা ও মেসি ভক্তদের।

বেলিংহাম বেশ সাবলীল স্প্যানিশ বলতে পারেন। সেই ভাষাতেই হয়তো কথা হচ্ছিল দু’জনের। ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের এই তরুণ তারকা বললেন, তিলকে তাল করা হচ্ছে এই ঘটনায়।

বেলিংহাম বলেন, ‘আমরা আসলে একটা ফাউল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তেমন গুরুতর কিছু ছিল না। আমি নিশ্চিত যে সবাই তাদের মতো করে এটাকে বড় করে তুলবে; কিন্তু এটা তেমন কিছুই ছিল না। আমার মনে হয়েছিল একটু আগেই একটা ফাউল হয়েছে। সে বলল ‘আমাকে যে ফাউল করা হয়েছিল, সেটার কি হবে?’ আমি তখন বললাম, ‘এটা সহ্য করার মতো যথেষ্ট শক্তি আপনার আছে। বুঝতেই পারছেন, আমি কী বলতে চাইছি।’

মেসির প্রতি মুগ্ধতার কথা আগে অনেক বলেছেন বেলিংহাম। দুই হাত ছড়িয়ে তার যে চেনা উদযাপন, মেসির উদযাপন থেকেই সেটির ভাবনা এসে বলে জানিয়েছিলেন। এই ম্যাচের পর মেসির প্রতি সেই সম্মান জানালেন ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।

তিনি যোগ করেন, ‘পরাজিত দলে আছি, স্বাভাবিকভাবেই খুব কষ্টদায়ক। কিন্তু সেরাদের একজনের বিপে মাঠে নামতে পারাটাও সম্মানের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারটি ছিল হৃদয়বিদারক। সেই ইংল্যান্ড দলের অংশ হতে চেয়েছিলাম আমি, যারা অবশেষে সফল হয়েছে। এখানে দাঁড়িয়ে ভক্তদের সেই একই কথা বলা, যা তারা সম্ভবত বছরের পর বছর ধরে শুনে আসছে, তা সত্যিই বেদনার। আমি দুঃখিত।’