সরকারের সিদ্ধান্ত

ভারতে গিয়ে খেলবে না বাংলাদেশ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ খেলবে নাকি খেলবে না- এই প্রশ্নটা বিসিবির টেবিলে নেই-নেই ক্রিকেটারদের হাতেও! বিষয়টি এখন সরাসরি রাষ্ট্রের কাঁধে। ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠক, আইসিসির প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর, দুবাইয়ের সভায় ভোটাভুটি কত নাটকীয়তা! সবকিছুর পর বাংলাদেশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্ত ঝুঁকি যেখানে বদলায়নি সেখানে ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোরও কোনো কারণ নেই- এটাই সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান। আইসিসির ২৪ ঘণ্টা সময়ের কাছে মাথা নত করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিংবা বাংলাদেশ সরকার। আগের মতোই অনড় অবস্থানে রয়েছে। গতকাল ক্রিকেটারদের সাথে সভা শেষে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের কথাই আবার জানানো হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ক্রিকেট অপারেশনসের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ১৫ জন ক্রিকেটার এবং স্কোয়াডে না থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সেই সভা শেষে বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান আসিফ নজরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সবার ভক্ত। নাজমুল, মিরাজ, সোহান, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম। আমরা সবাই চেয়েছি বিশ্বকাপ খেলতে। যেহেতু তারা কষ্ট করে এটা অর্জন করেছে। কিন্তু নিরাপত্তার যে ঝুঁকি ভারতে, সেটার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের এবং এতে অন্য কোনো পরে বিবেচনার সুযোগ নেই।’

আসিফ আরো বলেন, ‘আমাদের একজন প্লেয়ারকে (মোস্তাফিজুর রহমান) এভাবে আইপিএল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। একজন মোস্তাফিজকেই যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে, তারা আমাদের বাকি সব প্লেয়ার, সাংবাদিক, সমর্থক সবাইকে কিভাবে নিরাপত্তাকর্মীরা নিরাপত্তা দেবে?’

আসিফ যোগ করেন, ‘যে দেশ (ভারত) আমাদের একজন প্লেয়ারকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনীহা রয়েছে, সেই দেশের পুলিশই আমাদের দলকে কিভাবে নিরাপত্তা দেবে? আমরা কিভাবে কনভিন্সড হবো? এসব ব্যাপারে আইসিসি কিছু না করে তারা নরমাল প্রসেস দেখিয়েছে।’

সুবিচার পাইনি উল্লেখ করে আসিফের বক্তব্য, ‘এমনকি ভারত সরকার থেকেও কোনোরকম যোগাযোগ বা কনভিন্স করার চেষ্টা করেনি। আমরা এখনো আইসিসি থেকে সুবিচার পাইনি। আশা করি আইসিসি সুবিচার করবে। বহু ইতিহাস আছে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অন্য জায়গায় খেলা হয়েছে। আশা করছি এখনো আইসিসি আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির ব্যাপার বিবেচনায় নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেবে।’

আসিফের বক্তব্য শেষে বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘মোস্তাফিজ আইপিএল থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেয়নি, ইঞ্জুরডও ছিল না। নিরাপত্তাজনিত কারণে আইপিএলের দল থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। বিকল্প ভেনু চেয়ে আইসিসির সাথে যোগাযোগ করেছি ৪ জানুয়ারি। কারণ অতীতেও ভেনু পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়েছি। আমাদের মতো বড় ক্রিকেটপ্রেমী দেশকে তারা মিস করবে। এমন জনবহুল ক্রিকেটপ্রেমী দেশ না গেলে হোস্টদের জন্য ব্যর্থতা। আমরা হাল ছাড়ছি না, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’

ভারত সরকারের প থেকেও কোনো যোগাযোগ না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘যে ঘটনাটা ঘটেছে মোস্তাফিজের েেত্র, এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা আমরা এটার জন্য সরি’, আমরা এই ব্যবস্থা নিচ্ছি দর্শক, সাংবাদিক, খেলোয়াড়দের জন্য’, তারা কোনোরকম যোগাযোগের চেষ্টা করেনি। একটি বিশ্বকাপ খেললে আর্থিক বা ক্রীড়াগত লাভ হতে পারে সে কথা ঠিক। কিন্তু মাথা নত করে নিজেদের মানুষকে জেনুইন সিকিউরিটি রিস্কের মধ্যে ঠেলে দিলে যে তি হতে পারে, সেটাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।’

এবারের টি-২০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিক দেশ হওয়ায় শ্রীলঙ্কা এবং তাদের গ্রুপ ‘বি’ এর সব ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কাতে। সাথে পাকিস্তান ভারতে যেতে না চাওয়ার কারণে পাকিস্তানের সব ম্যাচও হবে লঙ্কানদের ডেরায়। বাংলাদেশ নিজেদের ম্যাচের ভেনু পরিবর্তন বা গ্রুপ পরিবর্তন করতে চাইলেও আইসিসির সর্বশেষ সভায় ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের প্রস্তাব টেকেনি। শ্রীলঙ্কাও নিজেদের গ্রুপে বাংলাদেশকে চায়নি। শেষ মুহূর্তে তাই আর তেমন কোনো বাস্তব আশা নেই। টি-২০ বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের- এটাই শেষ কথা।