প্রথম ম্যাচে তিন স্বাগতিক দলের ফল
- মেক্সিকো ২-০ দক্ষিণ আফ্রিকা
- কানাডা ১-১ বসনিয়া
- যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ প্যারাগুয়ে
আয়োজক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের প্রথম রেকর্ডটি করেছিল উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালে নিজ মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজন করেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সেই ধারা ১৯৩৪ সালে অব্যহত রেখেছিল ইতালি। এরপর ১৯৩৮-এ ফ্রান্স, ১৯৫০-এ ব্রাজিল, ১৯৫৪ তে সুইজারল্যান্ড, ১৯৫৮ তে সুইডেন, ১৯৬২তে চিলি হোস্ট হিসেবে শিরোপা জিততে পারেনি। স্বাগতিকদের টানা পাঁচ ব্যর্থতার পর ১৯৬৬তে সাফল্য ইংল্যান্ডের। তাদের একটি মাত্র বিশ্বকাপ জয় তা নিজ মাঠেই। এরপর ১৯৭৪ এ পশ্চিম জার্মানি, ১৯৭৮-এ আর্জেন্টিনা হোস্ট হিসেবেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আয়োজক হিসেবে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব ফ্রান্সের। ১৯৯৮ সালে তাদের প্রথম এই বিশ্বকাপ জেতা।
এরপর আর কোনো স্বাগতিক দেশের ট্রফি জয়ের ঘটনা নেই। এবার কি তিন স্বাগতিক দেশের কোনোটি জিততে পারবে ট্রফি। ফিরিয়ে আনতে পারবে হারানো ঐতিহ্য। তিন দেশই নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। হারের মুখ দেখেনি কেউ। যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে ৪-১ গোলের বিশাল জয়। মেক্সিকো ২-০ তে জিতেছে। আর কানাডা পিছিয়ে থেকে ১-১ এ ড্র করেছে।
বাস্তবতা বলছে সেই সম্ভাবনা কম। কারণ এবারের তিন যৌথ স্বাগতিকের দু’টিরই সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলার সুযোগ হয়নি অতীতে। এর মধ্যে কানাডা এখন পর্যন্ত কোনো জয়ই পায়নি বিশ্বকাপে। অপর দেশ স্বাগতিক মেক্সিকো ১৮ বার বিশ্বকাপ খেলে দুইবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। তা ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে নিজেদের মাঠেই। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১২ বার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসরে প্রতিনিধিত্ব করে একবারই সেমিফাইনালে খেলেছিল। তা সেই ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাঠে। সুতরাং এই তিন দেশের অতীত রেকর্ড বলে দিচ্ছে তাদের পক্ষে হোস্ট হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, ইতালি, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্সের পাশে থাকার সম্ভাবনা কম।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স টিভি যেভারে প্রচারণা চালাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে এবার তারা বিশ্বকাপ জিতেই ছাড়বে। এই টিভি চ্যানেলের প্রতিটি বিজ্ঞাপনেই এক কথা, এবার বিশ্বকাপ জিতবে ইউএসএ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা অ্যালেক্সি লালাস। ১৯৯৪-এর বিশ্বকাপে লম্বা দাড়ি আর লম্বা চুল নিয়ে খেলে সবার নজর কেড়েছিলেন। সৌদি আরবের বিপক্ষে হেডে গোলও করেছিলেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাকে ফক্স টিভির উপস্থাপিকা প্রশ্ন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে। সেখানে সম্ভাবনার কথা মোটেই উড়িয়ে দেননি; এখন পুরোপুরি ক্লিন সেভ এবং ছোট চুলের এই লালাস।
বিশ্বকাপে না হোক অলিম্পিক গেমস ফুটবলে স্বর্ণ জয়ের কৃতিত্ব আছে মেক্সিকোর। তা ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক গেমসে। সেটা নেইমারের উপস্থিতিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে। এ ছাড়া কনকাকাফ (কনফেডারেশন অব সেন্ট্রাল নর্থ আমেরিকা অ্যান্ড ক্যারিবিয়ান ফুটবল) গোল্ডকাপের ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। কনকাকাফ ন্যাশনস লিগের ২০২৫-এর শিরোপা হাতে নেয়া দল মেক্সিকো।
যুক্তরাষ্ট্র কনকাকাফ গোল্ডকাপে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন। হাল আমলের কনকাকাফ ন্যাশনস লিগে তিনবারের শিরোপা জয়ী। কানাডা দুইবারের কনকাকাফ গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন। এই সাফল্যগুলো তাদের বড় পুঁজি। এখন অপেক্ষার পালা।



